বিএসএফের মামলা পুনঃবিচারের ঘোষণা

ন্যায় বিচারের আশায় ফেলানীর পরিবার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৩
ফেলানী হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের পুনঃবিচারের সিদ্ধান্তে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় যেন আলো দেখছে ফেলানীর পরিবার। এখন তারা দিন গুনছেন কবে শুরু হবে এ বিচার কাজ। কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে নাগেশ্বরীর ফেলানী হত্যাকাণ্ডের আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৩ আগস্ট বিচার শুরু হয়। ভারতের কুচবিহার জেলার বিএসএফ’র ১৮১ সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ এবং পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন। সংশ্লিষ্টরা তখন জানান, বিএসএফ সদস্য যেখানে স্বীকারও করেছে সে গুলি করেছে। উচ্চ আদালত সেই অবস্থান থেকে ন্যায় বিচারের রায় দেবেন। কিন্তু বিশেষ আদালত ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমীয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দেন। ফেলানীর পরিবারসহ সকলেই ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেন। বাংলাদেশ-ভারতসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়। ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে ন্যায় বিচারের আশায় চিঠি দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ফেলানীর বিচারের ‘রিভিশন ট্রায়েল’ করার ঘোষণা দেয় বিএসএফ। ফেলানীর বিচারের রিভিশন ট্রায়েল বিএসএফের অভ্যন্তরীণ বিশেষ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। নাগেশ্বরীর দক্ষিণ রামখানা কলোনীটারীতে ফেলানীর বাড়িতে গেলে তার বাবা নূর ইসলাম বলেন, ‘প্রহসনমূলক বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করায় আদালত পুনঃবিচারের ঘোষণা দিয়েছে। আশা করছি এবার ন্যায় বিচার পাব। ফেলানী শুধু আমার মেয়ে না, ফেলানী বাংলাদেশের মেয়ে। সারাদেশের মানুষ এই ন্যায় বিচারের আশায় আছে’।