সিলেটে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। এতে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। হামলার প্রতিবাদে সিপিবি ও বাসদ আজ সোমবার সিলেট নগরীতে আধাবেলা হরতাল আহ্বান করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, সিপিবি ও বাসদ তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকালে কোর্ট পয়েন্টে বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের বক্তারা সরকারের সমালোচনা করে নানা বক্তব্য রাখছিলেন। সমাবেশ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সিলেট সফরকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রলীগ একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট এলাকা অতিক্রমকালে সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্য শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ছাত্রলীগ। তারা সমাবেশ আয়োজকদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ধর ধর বলে ধাওয়া ও নির্বিচার হামলা শুরু করে। সমাবেশের চেয়ার ও লাঠিসোটা দিয়ে তারা লোকজনকে পেটানো শুরু করে। প্রাণভয়ে মানুষ দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে। ছাত্রলীগের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় আতংক নেমে আসে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এ সময় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ আরো কয়েকজন আহত হন। সেলিম বাম হাতে আঘাত পেয়েছেন।
তাণ্ডব শেষে ছাত্রলীগ চলে যাওয়ার পর আবার সমাবেশ শুরু করলে ছাত্রলীগ ফের হামলার চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব-পুলিশ তাদেরকে বাধা দিলে তারা র্যাব-পুলিশের সাথেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কোতোয়ালি থানার ওসি আক্তার হোসেন আহত হন। এরপর পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার সিলেটে অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছে সিপিবি ও বাসদ।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের উপর হামলার পর তার হোটেল কক্ষে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দীন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জলিল চৌধুরী সুফিয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান।
নেতৃবৃন্দ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
