নাটোরের লালপুর উপজেলা সদর থেকে আট কিলো মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দুড়দুড়িয়ার নওপাড়া (রামকৃষ্ণপুর) গ্রাম। এই গ্রামে আছে একটি বটগাছ। বাংলা ১২১৭ সালে বটগাছের নিচে আস্তানা স্থাপন করেন ফকিরচাঁদ বৈষ্ণব। এখান থেকেই তিনি ধ্যান-তপস্যা ও বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার শুরম্ন করেন। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা, গঙ্গা স্নান ও নবান্ন উত্সব উপলক্ষে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত সাধক সমবেত হন। লোক মুখে শোনা যায়, নিঃসন্তান বন্ধ্যা মহিলারা বটগাছের নিচের আসনে বসে ‘ভিখ মাংলে’ যদি গাছের ফল পড়ে তাহলে তারা সন্তান লাভ করেন। সাধু ফকিরচাঁদ বৈষ্ণবের মৃত্যুর পর নওপাড়ার জমিদার তারকেস্বর র্তাঁর স্মরণে সমাধিটি পাকা করে দেন। এ ছাড়াও ভক্তদের সুবিধার্থে ৬৮ বিঘা জমি ও বিশাল দুইটি পুকুর দান করেন। আশ্রম চত্ত্বরে দালান কোঠা নির্মাণেও তিনি সহযোগিতা করেন। আশ্রমের প্রবেশ পথে রয়েছে ময়ূর, বাঘ ও বিভিন্ন প্রাণির মূর্তি এবং লতা-পাতা কারুকার্য খচিত সুবিশাল ফটক। প্রধান দ্বার পার হয়েই ডান পাশে রয়েছে ভক্ত সাধু ও সাধু মাতাদের আবাসন। বাম পাশে রয়েছে ৬ জন সাধুর সমাধি। একটু সামনেই রয়েছে শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণবের চার কোনা প্রধান সমাধি স্তম্ভ। বর্গাকৃতির ৪০ ফুট সমাধি সৌধের রয়েছে আরেকটি ৩০ ফুট গৃহ। এর একটি দরজা ছাড়া কোন জানালা নেই। মূল মন্দিরে শুধুমাত্র প্রধান সেবাইত প্রবেশ করেন। গম্বুজ আকৃতির সমাধির উপরিভাগ গ্রিল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। ঘরের দেয়াল ও দরজায় বিভিন্ন প্রাণি, গাছ, লতা-পাতা খচিত কারুকার্য শোভা পাচ্ছে। ভেতরে রয়েছে ঝাড় বাতি ও দেব-দেবীর মূর্তি। সোনা, রম্নপা ও কষ্ঠি পাথরে তৈরি মূল্যবান কারুকার্যগুলি চুরি হয়ে গেছে। সমাধির মাত্র পাঁচ গজ দূরে রয়েছে বিশাল আকৃতির এক কূপ, যার একটি সিঁড়ি পথ রয়েছে পাশের রান্না ঘরের সাথে সংযুক্ত। এই সিঁড়ি পথে সাধুগণ স্নানে যেতেন এবং রান্না জল সংগ্রহ করতেন। বর্তমানে কুয়ার পানি ব্যবহার অযোগ্য। আশ্রম চত্ত্বরে রয়েছে ১৪০ জন ভক্ত সাধুর সমাধি। প্রধান সমাধিগুলোর কয়েকটি হলো- পরাণ চন্দ্র সাধু (১৩০৭), মহেন্দ্র যোগেন্দ্রময়ী মাতা (১৩৩৫), অমৃত যোগে জয় মঙ্গল সাধু (১৩৩৬), সুন্দর মাতা (১৩৪১), সুখময়ী মাতা (১৩৪৩), শতদল মাতা (১৩৮১) প্রমুখ। আশ্রমের প্রধান সেবাইত শ্রী সদানন্দ সাধু জানান, দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন আশ্রম ভক্তদের অর্থে চলে। আশ্রমের ৬২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ ও পুকুরে মাছ রয়েছে। অনেক জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ফলে আশ্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শ্রী সরুপানন্দ সাধু ও শ্রীমতি শুকী মাতা সহকারী সেবাইত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশি¬¬ষ্ট সূত্র জানায়, আশ্রমটি পরিচালনার জন্য কখনও কোন সার্বজনীন কমিটি গঠিত হয়নি। সরকারি কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে আশ্রমের সম্পদ আত্মসাত্ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। মূল্যবান সম্পদ চুরি হয়ে যাচ্ছে। মস্নান হয়ে যাচ্ছে স্থাপত্যের এই মূল্যবান নিদর্শন।
