নাইক্ষ্যংছড়ির রাবার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৬
বাণিজ্যিক রাবার চাষে পার্বত্য বান্দরবান জেলার দুর্গম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা হতে পারে দ্বিতীয় মালয়েশিয়া। ১৯৮৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি অধ্যুষিত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে তোলা রাবার বাগান ব্যবসায়িকভাবে লাভের মুখ দেখছে। নাইক্ষ্যংছড়ির রাবার সম্ভাবনাময় হওয়ায় স্থানীয়রা পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির উত্পাদিত রাবার ল্যাটেক্স’কে তরল ‘সাদা সোনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ উপজেলায় উত্পাদিত রাবার দেশের রাবার শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মোট ৫১ হাজার ২৩০ একর বনভূমির মধ্যে ১৩টি মৌজায় ৫১২ জন মালিক প্রায় ১৪ হাজার ৭৫০ একরের বেশি পাহাড়ি এলাকাজুড়ে রাবার বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রতিজন মালিকের ২৫ একর জমির জন্য তিন হাজার ৭৫০ টাকা লিজের কিস্তি হার নির্ধারণপূর্বক বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৪০ বছর মেয়াদে এসব বাগান লিজ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় মৌজা হেডম্যানও উল্লিখিত রাবার বাগান থেকে মোটা অংকের রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের লিজের বাইরেও এ উপজেলায় সমপ্রতি স্থানীয়রা খণ্ড খণ্ডভাবে আরও প্রায় ১০ হাজার একর পাহাড়ি এলাকায় রাবার চাষ করছে। শ্রমঘন, লাভজনক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম বিধায় সম্ভাবনাময় এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন রাবার মালিকপক্ষকে সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ফুলতলী রাবার বাগানের ম্যানেজার মোরতজা বারী জানান, চারা লাগানোর ৭ বছর পরই রাবার উত্পাদন শুরু করা যায়। প্রতিটি গাছে উত্পাদনের প্রথম থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে রাবার উত্পাদন হয়। আর প্রতি গাছ থেকে গড়ে বার্ষিক ১২ কেজি ল্যাটেক্স (তরল সাদা কষ) পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ‘গ্রেড-১’ রাবার ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হয়। প্রথমে নতুন কোনো রাবার বাগান করতে উচ্চফলনশীল জাতের ১১ কিংবা ২১ মাস পদ্ধতির নার্সারি সৃজন করতে হয়। বাংলাদেশের ভূমিতে ২১ মাস পদ্ধতির চারা লাগানো সবচেয়ে নিরাপদ। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানায় গত এক বছর আগের হিসাব মতে প্রায় ১২ হাজার ৬৬৭ একর লিজের রাবার বাগান গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে মৌজা অনুপাতে বাইশারীতে ২২৫০ একর, তুমব্রু ১৩৬৭ একর, আলীক্ষং ২৩৬০ একর, ঈদগড় ১৪৫০ একর, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ২০২৫ একর, দোছড়ি ৫৫০ একর, বাঁকখালী ৪৫০ একর, রেজু ২২৫ একর, ঘুমধুম ৫৫০ একর, জারুলিয়া ২২০ একর, ভাল্লুকখাইয়া ২৭৫ একর, খোয়াইঝিরি ১৫০ একর ও পাগলী মৌজায় ১২০ একর। আর এসব বাগানের পরিচর্যা ও পরিচালনায় নিয়োজিত আছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারের অধিক রাবার শ্রমিক। পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর পিএইচপি রাবার বাগানের মালিক মিজানুর রহমান সমপ্রতি এক সেমিনারে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন রাবারের চাহিদা বাড়ছে। এজন্য রাবার শিল্প বিকাশের বিশাল সুযোগ আমাদের রয়েছে। তাই তিনি এই শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি ও রাবার প্লানটেশনের মালিক নূরুল আলম কোম্পানি বলেন, উপজেলায় রাবারশিল্প আরও গতিশীল করার জন্য রাবার বাগানের ধুমঘরগুলো আরও আধুনিকীকরণ এবং চুরি ও পাচার থেকে রাবার সেক্টরকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।