আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই বাঙ্গালি বিশ্বের বুকে সম্মানিত জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।' শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীদের রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারলেও অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়ে যেতে পারেন নি। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালীকে শুধু অর্থনৈতিক মুক্তিই এনে দেন নি, তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তিও এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাঙ্গালী জাতিকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করেন নি, তিনি নিজেকেও সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যখন দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, দল ভাঙ্গা ও রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননে লিপ্ত ছিলেন, সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশে ফিরেন। সেই সময়ে শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচিত করা যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল আজ তা প্রমাণ হয়েছে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সাম্প্রদায়িক শক্তিকে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সে কারণেই দেশে বার বার জঙ্গীবাদ মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।'
এ সময় বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, 'বিএনপি তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহন করে যেভাবে কারফিউ দিয়ে খুন ও গুপ্তহত্যা চালিয়েছিলেন, বিএনপি এখন তারই প্রায়চিত্ত করছে।'
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে প্রমাণ করেছিলেন- তিনি দেশের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য । শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগের সংকট দূর করা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর হারানো বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতো না।'
আরও পড়ুন: ‘ওয়াসার পানি রোগের কারণ, দিতে হবে ক্ষতিপূরণ’
মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জিয়াউর রহমান কারফিউ দিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন এবং শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে হত্যা করেছেন। সেই জিয়াউর রহমানকে বিএনপির নেতারা কিভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলেন এবং কথায় কথায় তারা মানবাধিকারের কথা বলেন তা কারোরই বোধগম্য নয়।'
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। তার নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। এটিই হচ্ছে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন, শেখ হাসিনা মানে গণতন্ত্র, শেখ হাসিনা মানে সমৃদ্ধি। এই অগ্রগতিকে আরো বেগবান করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।'
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন যাপন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
