বরিশালের গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাত না থাকায় পথচারী ও বাস যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা নেই। এখানে দূরপাল্লার ও লোকাল বাসের যাত্রীদের জন্য কোন যাত্রী ছাউনি না থাকায় রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে মহাসড়কের ফুটপাতে তৈরি হয়েছে দূরপাল্লার বাসের কাউন্টার। ফলে যাত্রীদের চলার পথ না থাকার কারণে নিরুপায় হয়ে তারা মহাসড়কের ওপর দিয়ে পথ চলাচল করছে। একারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিন্তু যাত্রীদের সমস্যা লাঘবের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।
জানা গেছে, দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর পূর্বে গৌরনদী পৌরসভার উদ্যোগে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে তিনটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু একযুগ যেতে না যেতেই বিনা কারণে তা গুড়িয়ে দিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২০০৪ সালে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ পিএমপি প্রকল্পের আওতায় গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড ও টরকী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় দূরপাল্ল¬¬া ও লোকাল বাসষ্ট্যান্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চারটি ছোট টিনসেডের যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছিলো। ২০০৭ সনের ১৫ নভেম্বর সিডরের আঘাতে ওই চারটি যাত্রী ছাউনির টিন উড়ে যায়। পরবর্তীতে যাত্রী ছাউনিগুলো পুনরায় মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। ওই যাত্রী ছাউনিগুলো এখন চালাশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
অপরদিকে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের ফুটপাত দখল করে নির্মিত হয়েছে বাস কাউন্টার। পূর্ব পাশের ফুটপাতে খাদের সৃষ্টি হওয়ায় পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়েছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে লোকজনকে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ।
এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও লাঘব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহআলম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাসষ্ট্যান্ডগুলো পৌর সদরে অবস্থিত তাই বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের। পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান হারিছের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তিনটি পয়েন্টে জরুরিভিত্তিতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ অপরিহার্য।
