বিএনপি এলে জঙ্গিরা আবার আসবে, দেশ সন্ত্রাসী যুগে ফিরে যাবে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৫
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস জাগিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। টঙ্গী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মধুপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, কালিয়াকৈর ঘুরে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছেন। তাকে এক পলক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। সর্বস্তরের নারী-পুরুষ রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায়। গত রবিবার থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত দুইদিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রাখার সময় সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখতে ও তার কথা শুনতে পথসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এসব পথসভায় জয় বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের মুক্ত করে দেবেন। এটা কি বাংলার মানুষ চায়? এটা আমরা হতে দেব না। যুদ্ধাপরাধীদের রায় হয়েছে, রায় কার্যকর করা বাকি। এই রায় বাস্তবায়নের জন্য আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আমরা ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো। বাংলাদেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামনের নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, ১৯৭১-এর বিপ্ল¬ব শেষ করার নির্বাচন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার নির্বাচন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিরা আবার ফিরে আসবে। এই দেশ আবার সন্ত্রাসী যুগে ফিরে যাবে। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মধুপুরের রাণী ভবানী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এখানে গারো অধিবাসীরা তাদের নিজস্ব ভাষায় গান গেয়ে, ‘ওয়েলকাম ওয়েলকাম সকবা গিবা প¬াকনা, জানাবা চিং কাদংনী সালাম ক্যান’ (তোমাকে স্বাগত, সোনা নেই, রূপা নেই, শুধু প্রাণ ভরা ভালবাসায় তোমাকে স্বাগত’ বেঁচে থাকলে ও ভাল থাকলে আবার এসো) এবং নেচে জয়কে স্বাগত জানায়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকালে সজীব ওয়াজেদ জয় মির্জাপুরের জামরুকী আব্দুল গণি স্কুল মাঠে এবং কালিয়াকৈর চন্দ্রা বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠের পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিনি কালিহাতীতে পথসভা করেন। গাড়িতে ঘাটাইল অতিক্রম করার সময় জনদাবির মুখে গাড়ির থেকে বের হয়ে তিনি বক্তব্য রাখেন। টাঙ্গাইলের ভাষানী মিলনায়তনের কর্মীসভায় যোগ দেন। কর্মীসভায় তিনি সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। জয় বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসে তবে সন্ত্রাস আবার ফিরে আসবে। বাংলার মানুষ আবার ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে এটা আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করে যাবো ইনশাল্ল¬াহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে তা ’৭৫-এর পর আর হয়নি। খাদ্য দিয়েছি, বিদ্যুত্ দিয়েছি, সন্ত্রাস দমন করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। ভিশন-২০২১ পূরণ করতে অর্ধেক বাকি। বাকি অর্ধেক পূরণ করতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যেতে হবে। বিএনপির সময় প্রতিবছর বোমা হামলা হয়েছে। আদালতে, সিনেমা হলে, সাংবাদিকদের ওপরে হামলা হয়েছে। ২১শে আগস্ট বোমা হামলার পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবনে। আওয়ামী লীগ এই সন্ত্রাস দমন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সস্তায় ফ্ল্যাট দেয়া হবে। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আরো স্কুল-কলেজ করা হবে। জয় বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিন। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে তাহলে কেউ হারাতে পারবে না। কে প্রার্থী হলো তা মাথায় আনা যাবে না। আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের বিজয় হবে এই বিশ্বাস আমার আছে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় eGjb, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়া হবে। দারিদ্র্য মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়া হবে। আর তাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির সময়ে বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে। এখন বাংলাদেশকে বলা হয় ভবিষ্যতের উজ্জ্বল রাষ্ট্র। আমরা আর ব্যর্থ রাষ্ট্রে ফিরে যেতে চাই না। এখন বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে- এই উন্নয়ন ধরে রাখতে হবে। আর তার জন্য আপনাদের ভোট চাই। আওয়ামী লীগে ভোট দিলে আর দারিদ্র্য ফিরে আসবে না। নৌকায় ভোট দিলে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ যাবে। আধুনিক উন্নত দেশ গড়তে নৌকায় ভোট দিন। এবার ক্ষমতায় আসলে দেশকে বদলে ফেলব। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। সে সময় মানুষের স্বপ্ন ছিল। ১৯৭৫ সালে সে স্বপ্ন বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই বিপ্ল¬ব বন্ধ করে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ আবার সেই বিপ্লব শুরু করেছে। এই বিপ্লব অর্ধেক হয়েছে। বাকি অর্ধেক শেষ করতে ভোট চাই। দোয়া চাই। স্কুলের অভাব ছিল। এখন স্কুলের অভাব নেই। নতুন ১৪ হাজার স্কুল হয়েছে। প্রতিবছর ২৬ কোটি টাকার বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ১২ হাজার স্বাস্থ্যকেন্দ করা হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। আগে ছিল ৬৫ বছর এখন গড় আয়ু হয়েছে ৭০ বছর। তিনি বলেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তবে আবার সেই সন্ত্রাসী যুগে ফিরে যেতে হবে। জয়ের সফরসঙ্গী হিসাবে ছিলেন সাবেক ছাত্র নেতা এনামুল হক শামিম, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।