সিলেটে সিপিবি ও বাসদের জনসভায় হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, দুই পক্ষেরই ‘অতি উত্সাহীরা’ এর জন্য দায়ী। গত রবিবার সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জনসভায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঐ ঘটনার পর রাতেই ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের ৬৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে সিপিবি-বাসদ আহূত সমাবেশ চলাকালীন সময় পাশেই ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সমাবেশ থেকে কতিপয় অতি উত্সাহী প্রো-বিএনপি, অতি বাম চেতনার কর্মী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ও অরাজনৈতিক ভাষায় বক্তব্য রাখছিল। এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের কতিপয় অতি উত্সাহী কর্মী কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেখানে দু’পক্ষই একে অন্যের ওপর হামলা করে।
হামলার ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সভাপতি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সৌজন্যবোধ রয়েছে। মৌলবাদ বিরোধী, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমাদের যুগপত্ আন্দোলনেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। গতকাল হঠাত্ এ ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। এ ঘটনার সঙ্গে গভীর কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা তথ্যানুসন্ধানের চেষ্টা করছি।
বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। যাতে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সময়ক্ষেপণ না করে। কিন্তু একটি বিশেষ মহল এ ঘটনাকে ভিন্ন রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে। হরতাল ও ভাংচুরের মতো কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। তাতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমর্থন দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসানসহ কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
