মৃিশল্পের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো টেরাকোটা বা পোড়া মাটির ফলক

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২০:৩৩

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা. সহকারি অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

শখের মৃিশল্প

প্রশ্ন-৫। মৃিশল্পের প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মৃিশল্পের প্রধান উপাদান: মৃিশল্পের প্রধান উপাদান হলো মাটি। মাটি দিয়ে শিল্পকর্ম বানানো হয় বলেই এ শিল্পকে মৃিশল্প বা মাটির শিল্প বলা হয়।

প্রশ্ন-৬। কয়েকটি মৃিশল্পের নাম বল।

উত্তর: কয়েকটি মৃিশল্প: মৃিশল্পের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো টেরাকোটা বা পোড়া মাটির ফলক। এছাড়াও রয়েছে শখের টেপা পুতুল, কলস, সরা, বাসন-কোসন, পেয়ালা, সরাই, মটকা, জালা ইত্যাদি। যুগ যুগ ধরে কুমোরেরা এসব শিল্প তৈরি করছে।

প্রশ্ন-৭। টেরাকোটা কী?

উত্তর: ‘টেরাকোটা’ ল্যাটিন শব্দ। ‘টেরা’ অর্থ মাটি আর ‘কোটা’ অর্থ পোড়ানো। পোড়ামাটির তৈরি মানুষের ব্যবহারের সব রকমের জিনিস টেরাকোটা হিসেবে পরিচিত।

 

প্রশ্ন-৮। বাংলাদেশের কোথায় পোড়ামাটির প্রাচীন শিল্প দেখতে পাওয়া যায়?

উত্তর: বাংলাদেশের যেখানে যেখানে পাওয়া যায়: মৃিশল্পের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন হলো টেরাকোটা। মাটির ফলকে বিভিন্ন নকশা খোদাই করে আগুনে পুড়িয়ে যে ফলক তৈরি করা হয়, সেটাই টেরাকোটা। প্রায় হাজার বছর আগে টেরাকোটার কাজ শুরু হয়। মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, বৌদ্ধস্তুপ, শালবন বিহার, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি স্থানে টেরাকোটার কাজ রয়েছে।

 

প্রশ্ন-৯। মাটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয় কেন?

উত্তর: বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় পাওয়া যায় মাটির শিল্পে। এ জন্যই মাটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়।

যে কারণে ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়: প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে মাটির শিল্পের চর্চা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে মাটির শিল্পের কাজ তেমন হচ্ছে না। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার। মাটির ফলক, পুতুল, কলসি-হাঁড়ি ইত্যাদি অনেক সুন্দর। এর দ্বারা আমাদের শিল্প মনের পরিচয় পাওয়া যায়। হাজার বছর আগে মানুষ কীভাবে জীবন চালাতো, তা-ও জানা যায় এসব মাটির শিল্প থেকে। এসব কারণেই মাটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়।

আমাদের যে অনেক সুন্দর শিল্পমন রয়েছে, সেটা প্রকাশ পায় মাটির শিল্পে। অনেক প্রাচীন হওয়ায় বর্তমানে এ শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়।