আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দুগ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ ও পাবনার গো-খামারীরা মোটাতাজা করেছেন তিন লাখ ষাঁড়। এখন চলছে বিক্রির জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে দুইটি বিষয় নিয়ে তারা ভীত। এর একটি হলো ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর যে কোন একটিই তাদের নিঃস্ব করে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটায় কোরবানীর বাজারে ধস নামে। অনেক খামারী রাজধানীতে গরু নিয়ে এসে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে যেনতেন দামে বিক্রি সেরে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ির পথ ধরেন। খামারীরা খানিকটা অভিমান করে বলেছেন, এবারে গতবারের মতো অবস্থা হলে তারা ব্যবসাই গুটিয়ে নেবেন।
মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ ও খামারীরা জানায়, অনুকূল আবহাওয়া ও কবিগুরুর দেয়া বিস্তীর্ণ গো-চারণ ভূমির কারণে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গড়ে ওঠে গো-খামার। দুই জেলার ছয়টি উপজেলার এসব খামারীদের সমবায়ের আওতায় এনে ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয় মিল্কভিটা। এরপর গো-খামার স্থাপনে আরো উত্সাহিত হয়ে ওঠে এলাকার খামারীরা। এই খামারীরা মূলত দুধ উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত। তবে ভাগ্য বদলের কথা চিন্তা করে উন্নত সংকর জাতের ষাঁড় মোটাতাজাকরণও করেন তারা। আগামী কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এসব মানুষ আশায় বুক বাঁধছেন। তাদের একটাই আকাঙ্ক্ষা ন্যায্যমূল্যে যেন তাদের বাড়ির ষাঁড়গুলো বিক্রি হয়। কারণ এর উপরেই নির্ভর করছে তাদের ভাল থাকা।
এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বার, চৌহালী উপজেলার গোয়ালবাড়ি চরের দবির উদ্দিন, আলমাছ মির্জা, তেঘুরী গ্রামের আবু হানিফ, মুনসুর রহমান, শাহজাদপুর উপজেলার বাজিয়ারপাড়া গ্রামের মঈনুদ্দিনের স্ত্রী নুপূর খাতুন, আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক জানান, এ অঞ্চলের সবচে বড় ও দামি গরু তারাই মোটাতাজা করেন। চড়া দামের খড়, খৈল, ভুষি ও নালী, গমের ভাত দিয়ে এসব গরু মোটাতাজাকরণে তাদের খরচ হয়েছে বেশ। গত বছর অবাধে ভারতীয় গরু প্রবেশ করায় তারা ব্যবসায় মার খেয়েছেন। এবার লোকসান পুষিয়ে নেয়ার পাশাপাশি লাভের আশায় তারা গরু পালছেন।
এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বার এবং শাহজাদপুর উপজেলার বাজিয়ারপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক জানিয়েছেন, তাদের পালন করা গরুগুলোই এবার এ অঞ্চলের মধ্যে সেরা। যার একেকটির দাম তারা আশা করছেন দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা। তিনি জানালেন, বন্যার পানিতে গো-চারণ ভূমি এখন পর্যন্তও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। যে কারণে চড়া দামের খড়, খৈল ও ভুষি জাতীয় দানাদার খাবার দিয়ে গরু পালতে হচ্ছে।
