বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে গতকাল সোমবার নওগাঁর পোরসা ও নিয়ামতপুর বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় ছয় সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সমাবেশে নওগাঁর পোরসা ও নিয়ামতপুর বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকের এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়। পোরসা, নিয়ামতপুর ও শাপাহার আসনের সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী ও পোরসা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার সমর্থকদের মধ্যে মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। উভয়পক্ষই ফেস্টুন বহনের লাঠি দিয়ে একে ওপরের উপর হামলা চালায়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এ সময় সমাবেশস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে আলাউদ্দিন, সাখাওয়াত, মজিবর রহমান ও আনসার আলীকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
সমাবেশ স্থলে জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার উদ্যোগে টাঙানো একটি বিশাল ব্যানার দখল করে তার ওপর আরেক বিশালাকৃতির ব্যানার টাঙান চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু সাইদ চাঁদের সমর্থকরা। এ নিয়েও নাদিম মোস্তফা ও চাঁদ গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ১১টার দিকে মাইক থেকে বারবার উভয়পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। সমাবেশ থেকে বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হন। নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন তারা। এদের মধ্যে মতিউর রহমান (২২), আনোয়ার হোসেন (২১) ও পিন্টুকে (১৮) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে নাদিম মোস্তফার কর্মী-সমর্থকরা জড়িত বলে দাবি করেছেন আবু সাইদ চাঁদ।
এদিকে দুপুর একটার দিকে নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সমর্থকদের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সামনে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনা ঘটে।
সমাবেশে ছিল জামায়াত নেতা-কর্মীদের দখলে :সমাবেশ শুরুর আগেই সকাল ১০টা থেকে জামায়াত নেতা-কর্মীদের দখলে চলে যায় সমাবেশ স্থল। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, রাজশাহী মহানগরীর প্রতিটি থানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আবাসিক থেকে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ব্যানার হাতে নিয়ে সমাবেশ স্থলে প্রবেশ করেন। মাঠ দুপুরের আগেই পরিপূর্ণ হলে তারা মাঠের আশেপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়। জনসভার মঞ্চেও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যেও পুলিশের ওয়ান্টেড নেতা-কর্মীও ছিলেন। জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতাদের ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির মুক্তির দাবিতে ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করে। মাঠের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল আকৃতির বেলুন জনসভায় আগতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নেতা-কর্মীদের সমাবেশে রাখতে সঙ্গীত : প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও সকাল ১০টা থেকে সমাবেশে আগত জোটের নেতা-কর্মীদের মাঠে ধরে রাখতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সঙ্গীত শিল্পী কনক চাঁপা, মনির খান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বেবী নাজনীন, পলাশ, ইথুন বাবু গান গেয়ে নেতা-কর্মীদের মন চাঙ্গা রাখেন।
