পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (৪৫) সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার ২৬ দিন পার হলেও এজাহারভুক্ত মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি সম্প্রতি পিরোজপুর গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আসামি পক্ষের লোকজন নিহত যুবলীগ নেতার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকালে উপজেলার বেকুটিয়া গ্রামের শেখবাড়ি মসজিদের কাছে একদল সন্ত্রাসী এনামুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। দুই সন্তানের জনক এনামুল বেকুটিয়া গ্রামের হামিদ হাওলাদারের ছেলে। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ছোটভাই এমাদুল হক বাদী হয়ে গত ২২ আগস্ট কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বেকুটিয়া গ্রামের মোফাখখের আলীর ছেলে মো. মামুন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার জোলাগাতি গ্রামের মোসলেম গাজীর ছেলে কামাল গাজীকে গ্রেফতার করতে পারলেও বাকি ১৫ আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পিরোজপুর জেলা চেম্বার্স অব কমার্স কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আসামি পক্ষের লোকজন নিহত যুবলীগ নেতার মেয়েকে কলেজে আসতে যেতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। আসামিদের অধিকাংশই ধরা না পড়ায় পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহত এনামুল হকের বড় মেয়ে মাছুমা হক প্রিয়াংকা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।
এছাড়া একই দাবিতে সম্প্রতি উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। জেলা ও উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী এমাদুল হক ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করে জানান, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলাটি জেলা ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু মূল আসামিরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের পরিবারের সদস্যরা আতংকে রয়েছেন।
এই মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, এনামুল হক হত্যা মামলাটি এস আই তাজ উদ্দিন মানিক তদন্ত করছেন। তবে মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
