‘টিসিবি’র পিঁয়াজ ১৫ দিনেই শেষ!

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:৩৬
বাজার নিয়ন্ত্রণে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করলেও মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। টিসিবির কাছে মজুত থাকা পিঁয়াজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা পিঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন ভূমিকাই রাখতে পারছে না সরকারের এই সংস্থাটি। টিসিবির হিসাবেই গতকাল সোমবার আমদানি করা পিঁয়াজ সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। যা গত ৪ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেশি। গত আগষ্টের শুরুতে পিঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে বিপাকে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ। পরে বাজার নিয়ন্ত্রণে খোলাবাজারে পিঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় টিসিবি। গত ২৯ আগষ্ট থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পিঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পিঁয়াজের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এ বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টিসিবি বাজার নিয়ন্ত্রণে মোট ৪’শ টন পিঁয়াজ আমদানি করেছিল। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অথচ টিসিবির পিঁয়াজ বিক্রির সময় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। এখন পিঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগে বাজার অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র বলে জানা গেছে। রাজধানীর নিউমার্কেট, কাওরান বাজার ও শান্তিনগর বাজার গতকাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আমদানি করা পিঁয়াজ মানভেদে ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদার তুলানায় পিঁয়াজের সরবরাহ নেই। তাই পিঁয়াজের দাম বাড়ছে। টিসিবির ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, টিসিবির আমদানি করা পিঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। ফলে গুদামে এখন কোন পিঁয়াজ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে পিঁয়াজ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। আবার কবে টিসিবির পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হচ্ছে এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আজ মঙ্গলবার টেন্ডার রয়েছে। ৩’শ টন পিঁয়াজ কেনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হবে।