কবিতা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:১৯
প্রিয় স্বদেশ ফারুক নওয়াজ মায়াঘেরা মেঠোপথ হাওয়া ঝিরিঝিরি ধুলো মেখে সন্ধ্যায় নিজগৃহে ফিরি এই মাটি, এই গৃহ, এই নদী-জলে— বেঁচে থাকি সুখে-দুখে কলো-কোলাহলে। দেশ দেয় ভালোবাসা, দেয় স্নেহ-ছায়া; দেশ দেয় স্নিগ্ধতা, জননীয় মায়া। স্বজনের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া- এই দেশ নিয়ে তাই কতো গান গাওয়া। সবুজের মাঝে লাল সূর্যটা আঁকা- এইটাতো আমাদের প্রিয় পতাকা। বুকভরা প্রেরণা, সাহস অশেষ— সবই দেয় আমাদের প্রিয় এ স্বদেশ। যতোদিন বেঁচে থাকি, বেঁচে থাকা যায়... এই দেশে থেকে যাবো মাটির মায়ায়। == ঘাসের ঠোঁটে মালেক মাহমুদ বনমোড়গের কুককুড় কু ডাক ভোরের মিছিল সূর্য অনুরাগ ঘুমন্ত বন চোখের পাতা খোলে বন বানরে বাদর ঝোরা ঝোলে। হাজার পাখির কিচির মিচির সুর ঝিলমিলে রং আনন্দ ভরপুর দূরে বসে সূর্য বাজায় বাঁশি ঘাসের ঠোঁটে শুভ্র শরত্ হাসি। বনমোড়গের ডাকে স্বাধীন বন পাখপাখালি আনন্দিত মন। === স্বপ্ন জাকির হোসেন চৌধুরী শরত্ হাওয়ায় নীল আকাশে ভাসছে মেঘের ভেলা কাশের বনে সারাবেলা সোনারোদের খেলা। নীরব আকাশ শিশির ঝরায় নদীর বালুচরে সন্ধ্যা হলে গাঁয়ের কৃষাণ সবাই ফেরে ঘরে। জোছনা রাতে তারার মেলা চাঁদের চারিপাশে স্নিগ্ধ আলোয় ঝিকিমিকি, ফুলপরীরা হাসে। ভোরের পাখি ডাক দিয়ে যায় শিউলি ঝরা বনে কৃষাণবধূ উঠল জেগে, খুশির ঝিলিক মনে। সবুজ মাঠে নতুন দিনের স্বপ্ন ওঠে দুলে ক’দিন পরে ভরবে গোলা সোনালি ধান তুলে। === আকাশ গাঙে আবেদীন জনী আকাশ গাঙে ওই ভেসে যায় সাদা মেঘের ভেলা মেঘের বুকে ঝিলিক মিলিক সোনা রোদের খেলা। লাল পরী আর নীল পরীকে অনেক ভালোবেসে মেঘের ভেলা যাচ্ছে বুঝি স্বপ্নপরীর দেশে। চোখ ধাঁধানো মন মাতানো সাদা কাশের ফুল হাসছে হা হা, চারপাশে তাই হাসির হুলস্থূল। হাওর-বিলে শাপলাখুকি ধবল হাসি হেসে সত্যি আমায় আপন করে যাচ্ছে ভালোবেসে। শরত্ এসে রূপ ছড়ালো, পূর্ণ হলো দেশ কাব্য ছড়ায় রূপের কথা হয় না লেখা শেষ। === হাসি মো. মনির তালুকদার শরত্ তুমি নীল আকাশে সাদা মেঘের হাসি, কাশবনেতে মন ভুলানো ফুল যে রাশি রাশি। সবুজ মাঠে ঢেউ খেলানো কাঁচা আমন ধান, বাউল মনে ভেসে ওঠা মাটির সুরের গান। আপন হাতে পরশ মাখা ছোট্ট খোকার ঘুড়ি, তারা জ্বলা চাঁদের দেশে চরকা কাটা বুড়ি। আরও হলে পুব আকাশে সূয্যি মামার মুখ, বর্ষা ভুলে তোমার মাঝে খুঁজে পেলাম সুখ === রঙের খেলা সৈয়দা শাহজাদী জাহান আকাশ মাঝে মেঘের ভেলা শুভ্র-মেঘে রঙের খেলা নানা রঙের ফুলের মেলা কাশ ফুটেছে সকালবেলা। শরত্ এলো দারুণ সাজে পাড়ায় পাড়ায় ঢোলক বাজে শরতরাণির লাজুক হাসি হূদয় মাঝে স্বপ্ন-রাশি। === নীল আকাশে রানা জামান শরত্কালে নীল আকাশে পেজাতুলো মেঘ হেলেদুলে ঘুরে বেড়ায় নেই তো তেমন বেগ। নদীর ধারে কাশের বনে দোলে শাদা ফুল ধীরে ধীরে প্রতিদিনে শুকায় নদীর কূল। মাঠে মাঠে সবুজ ফসল জুড়ায় চাষির চোখ হাঁটুজলে মাছ যে ধরে পল্লী বাংলার লোক। === মেঘের ভেলা মো. তৌহিদুল ইসলাম তপু নীল আকাশে মেঘের ভেলা ভাসছে হেলে-দুলে, নদীর বুকে হাঁসের দল স্রোতের প্রতিকূলে। কাশ ফুলেরা ডেকে বলে দাঁড়াও পালের নাও, মাঝির ভরাট গলায় ভাটিয়ালী একটু শুনে যাও। === নদীর ধারে সমীরণ বড়ুয়া নদীর ধারে খালের পাড়ে উঠছে দুলে কাশফুল ধানের ক্ষেতে মেঠোপথে ফুটল সবুজ ঘাসফুল। রেণু বনে ছুটছে মিছিল মৌমাছিদের গুঞ্জরণ, শিউলি ঝরা ফুলের বনে যাচ্ছে নেচে সমীরণ। === শিউলি-ভোর সাফিনা আক্তার শিউলি ঝরা! দিন এসেছে লাগছে মনে ঘোর অবুঝ রাতটা শেষ হয় না আসবে কখন ভোর? গাছের তলে সবার আগে ছুটেই যাব আমি সাদা পাপড়ি কমলা বোঁটা সোনার মতো দামি। ঘাসের বুকে ফুলগুলো ওই শিশির জলে ভিজে সুতায় গেঁথেই মস্তমালা ঘ্রাণ ছড়াবে কী যে। === মেঘের ভেলা মির্জা আদিপ আকাশ জুড়ে মেঘের ভেলা শুভ্র-সাদা রঙের খেলা, জমবে এবার শরত্-মেলা। কাশফুলেদের নাচের তালে, পাখিও নাচে গাছের ডালে, যায় উড়ে বক আপন পালে, রানির সাজে শরত্ এলো— দুধ মাখা এক চাদর পেলো, মেঘের সাথে মিশে গেলো। === শুভ্রতা শাহজাহান মোহাম্মদ শরতের শুভ্রতা সবুজের-গাঁয় মন আজ দূর দেশে যায় ছুটে যায় সাদা মেঘের ওড়নায় নীলাকাশ— ক্ষেত ভরা ফসলেরা কানায় কানায়। মাঠ-ঘাট যেন সাদা দেখি বালুচরে— মিতালিতে শালিকেরা কাশফুল বনে বলাকারা ডানা মেলে ফিরে যায় নীড়ে অনাবিল স্নিগ্ধতা শিউলির মনে। === লুকোচুরি ফয়সাল শাহ শরত্ আসে আকাশ মাঠে প্রজাপতির ডানায়, হলদে বোঁটায় শিউলিফুলের শিশির কণায়-কণায়। নদীর ধারে কাশের বনে ডাহুকছানা ডাকে ভাদ্রমাসে ভীষণ গরম কত যে তাল পাকে। হঠাত্ করে বৃষ্টি নামে মেঘের লুকোচুরি বিলের জলে দুলছে সুখে কলমি ফুলের কুঁড়ি। === দীঘির জলে বিশ্বনাথ বিশ্বাস ওই যে দূরে নীল আকাশে সাদা মেঘের তরী যাচ্ছে নিয়ে অচিন দেশে ডানা মেলে পরী। পরীর ডানায় মুক্তা গাঁথা শরত্ এলো ঘরে— শিউলি ফুলের সুবাস ভরা নিত্য পথে ঝরে। শরত্ এলো আকাশ ছোঁয়া মিষ্টি কলরব— কাজল কালো দীঘির জলে ফুলের মহোত্সব। === আমার দেশে শাহীন খান চুপটি করে শরত্ আসে আমার দেশে মেঘমালারা দূর গাঁয়েতে যায় গো ভেসে বনে ফোটে ফুল আর কাশে ভরা কূল প্রজাপতি দোদুল দোলে নেইকো তার তুল। === কাশের সারি ইয়াসিন চাতক খোলা চুলে ঋতুরানী শিউলি ফুলের কানাকানি শুভ্র-সাদা মেঘের ভেলা আকাশ জুড়ে করে খেলা। নদীর তীরে কাশের সারি ছাতিম ফুলের গন্ধ ভারি— তালতলাতে ছেলে মেয়ে আকাশ পানে থাকে চেয়ে। কখন আবার ডাকাডাকি কাদাজলে মাখামাখি ফিরলে বাড়ি-বেলা শেষে মা’র বকুনি হেসে হেসে বাবাকে ভয় সবার মনে লুকিয়ে থাকে ঘরের কোণে। === রাতের আকাশ আব্দুর রকিব শরত্ এলো আকাশ-নদে ভাসিয়ে মেঘের ভেলা রোদ ও বৃষ্টির লুকোচুরি দারুণ মজার খেলা। মাঠে মাঠে বইছে হাওয়া সবুজ হরিত্ মেলা ছায়ার পিছে রোদের ছায়া গড়ায় অলস বেলা। চাঁদকে ঘিরে তারার মেলা রাতের আকাশ বাগে শিউলি ফোটে নীরব ঝরে সূর্য ওঠার আগে। ভোরের রোদে শিশির কণা মুক্তা ছড়ায় ঘাসে গাঢ় সবুজ রঙের শোভা গাছের পাতায় হাসে। === আকাশ জসীম আল ফাহিম আঁধার হলেই জোনাক জ্বলে ডাকে ঝিঁঝিঁ পোকা শিউলি কেয়া আর মাধবী ফুটে থোকা থোকা। বরফ সাদা মেঘেরা যায় হাওয়ার ওপর ভেসে শরতকালের রূপ অপরূপ সোনার বাংলাদেশে। === শরত্ এলে সাবিত সারওয়ার ইচ্ছে ঘুড়ি উড়িয়ে দিলাম শুভ্র মেঘের বাঁকে যেইখানে সেই কাশফুলেরা নিজস্ব রঙ আঁকে। দলবেধে মেঘ ছুটতে থাকে মিছিল চলা সারি পরস্পরে কান কথা কয় কি যেন দরকারী। আকাশ-রাণি জামদানিতে বেশ ধরেছে নীল খবর পেয়ে দেখতে গেল দুরন্ত গাঙচিল। === চিঠি ধান চমন-ই-এলাহি এই শরতের খোলা চিঠি আকাশ পানে দ্যাখো, রাতের তারায় ঝিকিমিকি আঁখির পাতে রাখো। কচি-কাঁচা খোকা ও খুকি বড় হবে যখন, মনের কোনে জাগবে স্মৃতি জোনাক জ্বলা তখন। ফুটছে ফুল গাইছে পাখি উষার আঙিনাতে, এই শরতের মিলামিল সৌর বছর গাঁথে। এই শরতে আমন ধান সবুজ হয়ে ওঠে, চাষির চোখে স্বপ্ন রঙিন বধূর হাসি ঠোঁটে। === কাশ ফুটলো মীর রবিউল ইসলাম রবি বর্ষা গেলো শরত্ এলো, নদীর ধারে কাশ ফুটলো; ঝাঁকে ঝাঁকে বক ছুটলো। ভাদ্র-আশ্বিন আসলো শরত্, মধুর কণ্ঠে ডাকলো ভরত। === মেঘের ভেলা শাহীন আল ইসলাম নীল আকাশে মেঘের ভেলা পালক মেলে করে খেলা প্রভাত রবির কোলে, রূপালি রোদ রাশি রাশি কাশ বনেতে ফুলের হাসি হাওয়ার সাথে দোলে। শিশির ছোঁয়া ঘাসের বুকে প্রজাপতি মনের সুখে পরাগ মেখে নাচে— শরত্ শোভা সাদা মেঘে চাঁদের কিরণ পরশ লেগে ঝিকমিকিয়ে বাঁচে! === কাঁচা রোদ এস. ইলিয়াস বাবর ফুটেছে রে কাশফুল শুভ্র সাদা দেখায় ওই নদীর কূল শেফালি আর জুঁই খেলে যায় লুকোচুরি কাঁচা রোদ আয় ছুঁই। শারদীয়া লক্ষ্মী শরতে মুছে দেই যত সব ঝক্কি! === মেঘের ভেলা মোহাম্মদ ইলইয়াছ ইষ্টি এলো মিষ্টি নিয়ে শরত্ এলো তাই, ভাদ্র-আশ্বিন দুটো মাস শরত্ খুঁজে পাই। মাঠ-প্রান্তর নদীর পাড়ে কাশফুলের হাসি, মনের মাঝে স্বপ্নপাখি উড়ে রাশি-রাশি। শিউলিগুলো জোছনা পেতে জাগলো সারারাত, প্রভাত বেলায় শরতরাণির কোমল দুটো হাত। শরতরাণি উঁকি দিয়ে মিষ্টি-মিষ্টি হাসে, শ্বেত-শুভ্র মেঘের ভেলা নীল আকাশে ভাসে। === শ্বেতপরি খগেন্দ্র নাথ বিশ্বাস শরত্ এলো তাই আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ভেসে ভেসে দূর অজানায় যাচ্ছে সারা বেলা। শিউলি ফুলে উঠলো ভরে শিউলি ফুলের বন রূপ দেখে তার মুগ্ধ দু’চোখ গন্ধে আকুল মন। নদীর তীরে কাশের বনে শ্বেতপরিদের মেলা বাতাস লেগে দুলে দুলে করছে তারা খেলা। আকাশের চাঁদ শঙ্খ-সাদা জ্যোত্স্না ঝরায় সে- আকাশতলে ফুলের বনে ডালা সাজায় যে! === দুপুর আসলাম প্রধান বোনারপাড়া স্টেশনে রেললাইনের দখিন পাশে দেখতে পাবে গোটা কয়েক কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ আছে। ভাদ্র মাসের গরমেতে কারো কপাল ঘামলে এক নিমিষে স্বস্তি পাবে সেইখানে যে’ থামলে। বাতাস পাবে ঠাণ্ডা ঝিরিঝিরি সব পথিকের জন্যে সেটা ফ্রি। হাইস্কুলের সামনে আছে একটা বড়ো পুকুর পুকুর পাড়েও দেখবে ফ্রি শরতকালের দুপুর। === নদীর পাড়ে শামসুদ্দিন আহমেদ শরত্ আসে কাশবনে শরত্ দুর্বাঘাসে, হাওর বিলে শাপলা ফুল জলের উপর ভাসে। নদীর পাড়ে কাশফুল বাতাসে দোল খায়, পাল তোলা নাও বেয়ে মাঝি ভাটিয়ালী গায়। === বিলের ধারে মহসিন আহমেদ বিলের ধারে ঝিলের পাড়ে ফুটলো পদ্মফুল, শুভ্র-সাদা কাশের বনে লাগছে হাওয়ার দোল। বকের মেলা মাছের খেলা মাতাল হলো জল, বৃষ্টি এসে ধানের চারা হয়ে গেছে তল। শিমুল ডালে সুরে তালে গাইছে পাখি গান, মধুর সুরে অভিমানীর ভাঙে অভিমান। শরত্ এসে মিষ্টি হেসে দেখায় সুখের পথ, তারই পরশ হয়ে সরস সাজে ভবিষ্যত্। === প্রজাপতি তৌহিদুল ইসলাম কনক শরত্ এলো নীল আকাশে, সাদা মেঘের ভেলা প্রজাপতি উঠলো মেতে সুখে-দুখের মেলা। সবুজ ঘাসে রোদ যে হাসে ঝিকমিকিয়ে জ্বলে রাতের বেলা জোনাকি সব মধুর কথা বলে। === ভোরের হাওয়া মেজু আহমেদ খান হালকা শিশির বিন্দু নিয়ে দুর্বা ঘাসের বুকে মুক্তো যেনো ঝলকানি দেয় ভোরের হাওয়া মন কেড়ে নেয় নিসর্গ আজ জানান দিলো, শুভ্র শরত্ সুখে। আজ শরতের অই শান্ত দুপুর বেলা, শরতরাণির উড়ছিলো কেশ শান্ত শ্যামল এই পরিবেশে ভাসছিলো ওই আকাশেতে সাদা মেঘের ভেলা।।