ক্লাস প্র্যাকটিক্যাল আর পরীক্ষার কারণে খুব বেশি বিনোদনের সুযোগ পায় না বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমরা সব সহপাঠীরা মিলে ঠিক করলাম আনন্দ ভ্রমণে বের হব। অবশেষে সবার সম্মতিক্রমে ছুটির দিন শুক্রবারেই আনন্দ ভ্রমণের দিন নির্দিষ্ট করা হলো। আমরা সবাই বাকৃবি কৃষি অনুষদের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। নির্দিষ্ট দিনে সকাল ৯টা বাজতেই সবাই নদীঘাটে আসলাম। আগে থেকেই ঠিক করা ছিল নৌকায় করে আমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছব। গন্তব্যস্থল ক্যাম্পাস থেকে ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষা নিঝুমদ্বীপ। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যস্থলে পৌঁছলাম। নিঝুমদ্বীপের সবুজের নয়নাভিরাম রূপ মুহূর্তেই সবাইকে বিমোহিত করে ফেলল। চারপাশে শুধু গাছ আর গাছ। মেঘাচ্ছন্ন আকাশটা চার পাশের পরিবেশকে আরও কাব্যিক করে তুলল।
এদিকে আমাদের সহপাঠী মাসুদ, শিবলী, তানভীর নাছোড়বান্দা হয়ে পড়ল সবাই মিলে ক্রিকেট খেলার জন্য। দুই টিমে ভাগ হয়ে শুরু হল ক্রিকেট খেলা। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ব্যাটিং বোলিং এ সমান পারদর্শিতা দেখাল। বোলিং-এ ব্যাপক প্রতিভা দেখাল কেয়া, জেরিন ও প্রেমা। দশ-দশ ওভারের খেলায় শেষ পর্যন্ত জিতল তানভীর এর টিম। খেলা শেষ না হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল তুমুল বৃষ্টি। সাথে প্রচণ্ড ঝড়-তুফানও শুরু হয়ে গেল। প্রায় আধাঘন্টা পর থামল বৃষ্টি। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল দুপুরের খাওয়ায়। খাওয়া শেষে কিছুক্ষণ রেস্ট নেয়ার পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে শুরু হল গানের খেলা। এক ভাগে ছেলেরা অন্য ভাগে মেয়েরা। এদিকে সাউণ্ড বক্সে একের পর এক জনপ্রিয় গানগুলো বাজতে থাকল।
হঠাত্ করে জেরিন ও কেয়া একত্রে নাচ শুরু করলে তাদের সাথে সঙ্গি হয় তিথী, প্রেমা, তানি, সেতু, সোনিয়া, ইয়াসমীন ও রিয়া। ছেলেরাও কিছুক্ষণ পর তালে তালে নাস্তে শুরু করল। মিসবাহ্, মিথুন, ফাহিম, শিবলী, মাসুদ, আল-আমিন, কায়সার, মেহেদী, ডলার, সঞ্চয়, পিয়াস, নিয়াজ, উত্তম কেউই নাচে কম পারদর্শিতা দেখায়নি। অবশেষে বেজে গেল বিদায় ঘন্টা সবার চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ দেখা গেল। তবুও ফিরতে হবে। কবিগুরুর ‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়’ উক্তিটিকে চিরসত্য করে বিকাল ৪টার দিকে আমরা চিরচেনা ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম।
