ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি
প্রকৌশল শাস্ত্রের জন্য জগিবখ্যাত দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস পাঁচটি ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ক্যাম্পাস ইউনিভার্সিটি এবং অপরটি একটি মেডিক্যাল স্কুল। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৬৮,৩১৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি আমেরিকার বোস্টন অঙ্গরাজ্যের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত। ইউম্যাস সিস্টেমের অন্তর্গত ইউনিভার্সিটির ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্টস ক্যাম্পাসটি সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ক্যাম্পাসটি প্রতিষ্ঠানটির পতাকা উত্তোলনকারী সর্ববৃহত্ ক্যাম্পাস। এখানে বোস্টন অঙ্গরাজ্যের সর্ববৃহত্ লাইব্রেরি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত কিছু ভাস্কর্য। আর বোস্টন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানের বোস্টন ক্যাম্পাসটি গবেষণাধর্মী। এখানে জন এফ কেনেডি লাইব্রেরি এবং ম্যাসাচুসেটস স্টেট আর্কাইভ রয়েছে। এ ক্যাম্পাসটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো এখানে ২০০টির বেশি শিক্ষার্থী অর্গানাইজেশন রয়েছে। ডার্থমাউথ ক্যাম্পাসটি ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে বেডফোর্ড টেক্সটাইল রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস লোওয়েল ক্যাম্পাসটি ১৮৯৪ সালে লোওয়েল নর্মাল স্কুল এবং ১৮৯৫ সালে লোওয়েল টেক্সটাইল স্কুল নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। একটি বেসরকারি গবেষণাধর্মী ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৩৬ সালে। ইউনিভার্সিটিটি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজে অবস্থিত। আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। হার্ভার্ডের ইতিহাস, প্রভাব এবং সম্পদের প্রাচুর্য প্রতিষ্ঠানটিকে সারাবিশ্বে ব্যাপক পরিচিত এনে দিয়েছে। জন হার্ভার্ডের নামে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটিটি ১৯০০ সালে অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইউনিভার্সিটিজের সদস্যপদ লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১১টি একাডেমিক ইউনিট রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি ফ্যাকালটিজ এবং ১টি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি। প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসটি ২১০ একর স্থানজুড়ে হার্ভার্ড ইয়ার্ড ক্যামব্রিজে অবস্থিত। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এই ইউনিভার্সিটি আমেরিকায় নারী শিক্ষার অগ্রপথিক। দ্য হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি সিস্টেমটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উইডেনার লাইব্রেরি। প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি লাইব্রেরির সমন্বয়ে গঠিত। এতে ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১৫ লাখ বইয়ের ভলিউম সংরক্ষিত আছে। আমেরিকার সাতজন প্রেসিডেন্ট এ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এ ইউনিভার্সিটির ৭৫ জন নোবেল লরিয়েটস রয়েছেন। এছাড়া ৬২ জন জীবিত ধনকুবের এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ
ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ একটি পাবলিক রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটি ১২০৯ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংরেজি ভাষাভাষী ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীনতম ইউনিভার্সিটি। সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনুসরণীয়। বর্তমানে এটি একটি কলেজিয়েট ইউনিভার্সিটি। যেখানে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে। এ প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত ৩১টি কলেজ এবং অনুষদগুলো শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট ছোট দল গঠন করে প্রতি সপ্তাহে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ৩১টি কলেজে প্রতিষ্ঠানটির ১৫০টি অনুষদ, স্কুল, সিন্ডিকেট রয়েছে যারা ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রমের দেখভাল করেন। প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি স্কুলে বিভক্ত। যার তত্ত্বাবধায়ক একজন সুপারভাইজার। এ ছয়টি স্কুলের অন্তর্ভুক্ত আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, ক্লিনিক্যাল মেডিসিন, হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স, টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি শিক্ষাবর্ষে বিভক্ত। ১১৪টি লাইব্রেরি রয়েছে। দ্য ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি প্রধানতম গবেষণা লাইব্রেরি। যেখানে ৮ মিলিয়ন বা আশি লাখ বইয়ের ভলিউম সংরক্ষিত আছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী ৬৫ জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) একটি গবেষণাধর্মী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৬ সালে। এটি বিশ্বের সুনামধন্য একটি ইউনিভার্সিটি। সম্ভবত এটি যুক্তরাজ্যের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছেলেমেয়েদের ভর্তির ভারসাম্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাস সেন্ট্রাল লন্ডনে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, দোহা, কাতারসহ নানা জায়গার প্রতিষ্ঠানটির স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস আছে। ১০টি অনুষদে প্রায় ১০০ বিভাগ, ইনস্টিটিউট, গবেষণা সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২৬ হাজার শিক্ষার্থী, ১০ হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তা আছে। এছাড়া বছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৮৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর প্রায় ৩০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয় গবেষণা থেকে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৪ হাজারের ওপর একাডেমিক এবং গবেষণাকর্মী রয়েছে। আর প্রফেসর আছে ৬৫০ জন। সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাজ্যের অন্য যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালের বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অবস্থান চতুর্থ। ১৯৯৯-২০০৯ সালে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আসনের ইউনিভার্সিটি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক করা ২৬ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন। একটি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়। এটি যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশলবিদ্যা, মেডিসিন এবং ব্যবসা বিষয়ে পড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অন্তর্ভুক্ত। এটা পুরোপুরি স্বাধীন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হয় ২০০৭ সালে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৫ম অবস্থানে আছে। এছাড়া ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ১৪ জন স্নাতকধারী নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত। অন্য ক্যাম্পাসগুলো চেলসিয়া, হামারস্মিত, পেডিনটনে অবস্থিত। এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয়। ইম্পেরিয়ালে চারটি মেইন একাডেমিক ইউনিট রয়েছে। এগুলো হলো- ইম্পেরিয়াল কলেজ ফ্যাকাল্টি অব ন্যাচারাল সায়েন্সেস, ইম্পেরিয়াল কলেজ ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন, ইম্পেরিয়াল কলেজ ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ বিজনেস স্কুল। এসব ইউনিটে প্রায় ৪০টি বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ১৩,৫০০ শিক্ষার্থী এবং ৩,৩০০ গবেষণা সহকারী রয়েছে।
