খাদ্যে ভেজালমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৬
চারিদিকে ভেজালের জয় জয়কার! খাদ্যে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল, পানিতে ভেজাল, বাতাসে ভেজাল। যেন ভেজালের উত্সব চলছে। তবে খাদ্যে ভেজাল সব ভেজালকেই ছাড়িয়ে গেছে। যার ভুক্তভোগী আমরা সবাই, যার পরিণতিও ভয়ংকর। খাদ্যে ভেজাল এমন একটি নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে সুস্থ মানুষকে সুস্থ ধারা থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল আমাদেরকে এতই সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছে যে কোনো খাবারের প্রতি আস্থা আজ প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাজা ফলমূল দেখে খেতে ইচ্ছা হলেও, ফরমালিনের ভয়ে ইচ্ছেকে দমন করতে হয়। অনেক শখ করে কেনা মাছকে নিয়েও সন্দেহ হয়। তরতাজা মাছ, এতে থাকবে এক ধরনের বিষ, ভাবতে খুবই খারাপ লাগে। শাকসবজি খাই ভিটামিনের অভাব পূরণের জন্যে, কিন্তু সন্দেহ হয় এই শাকসবজির সঙ্গে আর কী যেন অদৃশ্য ক্ষতিকর উপদান খাচ্ছি। দুধ, ডিম— এতেও নাকি ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। গুঁড়োদুধে মেলামাইন, ডিমে রাসায়নিক রং মেশানোটা আর নতুন কিছু নয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, আজকাল কিছু মানুষের আচরণেও ভেজাল দেখা যায়। খাদ্যে ভেজালের ফলে মানুষের মনে ভেজাল সৃষ্টি হচ্ছে, নাকি মানুষের মনের ভেজালের কারণে খাদ্যে ভেজাল হচ্ছে! এটি সত্য যে, কিছুৃ অসাধু, অতি মুনাফালোভী, স্বার্থপর মানুষ এত সব ভেজালের সঙ্গে জড়িত। দিনের পর দিন তারা এই ভেজাল অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। তারা একটুও ভাবে না যে এই ভেজালের ফলে সব বয়সী মানুষ কীভাবে নির্মমতার শিকার হচ্ছে। বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্যে খাদ্যে ভেজাল যে এক ভয়ংকর অভিশাপ, সেই ন্যূনতম বোধটুকু সবারই থাকা উচিত। অবস্থা এতই বেহাল যে আজ ফরমালিনমুক্ত বাজার ঘোষণা করতে হয়। সাইনবোর্ডে ফরমালিনমুক্ত লিখে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হয়। কোন দিন যেন এমনও শুনতে হয় যে এখানে ফরমালিনমুক্ত বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যায়! সমাজ যেন আজ ভেজালকারীদের কাছে নতি স্বীকার করেছে। ভেজালকারীরা যেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে বিশেষ আইন করবে বলে অনেক দিন ধরে শুনে আসছি। কিন্তু কেন যে দেরি হচ্ছে তা নীতিনির্ধারকেরাই ভালো বলতে পারবেন। ফরমালিন কীভাবে আমদানি হয়, খোলা বাজারে বেচাকেনা হয়, কীভাবে খাবারের সঙ্গে মিশে যায় তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্বোধ্য নয়। ইতোমধ্যে ভেজালবিরোধী অসংখ্য মানববন্ধন, আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক প্রচারণা হয়েছে এবং হচ্ছে। সবকিছুর মূল কথা—ভেজাল প্রতিরোধে একটি বিশেষ আইন তৈরি করে তা কার্যকর করা হোক। ভেজাল প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সবাই এগিয়ে আসুক। আর ভেজালকারীদের বলি— ভাই, মানুষ হয়ে কেন আরেক মানুষের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছেন? কেন অন্যের জীবনে এত বড় সর্বনাশ ডেকে আনছেন? ক্রেতা বা ভোক্তা তারা তো নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে আপনার পণ্যটি কিনছে। তাহলে আপনারা কেন ভেজাল দিয়ে অন্যের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলছেন? ভেজাল বাদ দিয়ে আপনি এগিয়ে আসুন, দেখবেন অন্যান্য প্রতিযোগীও এগিয়ে আসবে। আপনাদের ওপর ভোক্তাদের যেমন আস্থা বাড়বে, তেমনি বেচাকেনাও অনেক বেড়ে যাবে। আর সততা ও সত্যের জয় সব সময় তো আছেই। এমন যদি হতো এদেশের খাদ্যে কোনো ভেজাল নেই, মানুষের মনেও কোনো ভেজাল নেই। সবাই ভালো ও কল্যাণজনক কাজে প্রতিযোগিতা করছে । সবাই নিজ কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ও দায়িত্ববান। বিশ্বে এই প্রথম সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত দেশ আমাদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে দেখে অন্যান্য দেশও শান্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যেন গোটা বিশ্বেই শুভ পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। জানি না এই স্বপ্ন পূরণ আর কত দূর! তবুও আমরা আশাবাদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়