কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর দেশের ভবিষ্যত্ ছেড়ে দেয়া যাবে না

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৭
দেশের একমাত্র নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা মহল বিশেষের ইচ্ছার ওপর দেশ ও জাতির ভবিষ্যত্ ছেড়ে দেয়া যাবে না। দেশের মানুষ সম্মিলিতভাবেই নিজেদের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করবেন। তাদের জন্য সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের একটি সংগঠনের দেয়া সংবর্ধনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল পুরস্কার অর্জন করায় তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এছাড়া সংগঠনের নেতা আবু সাঈদ বাবলু ড. ইউনূসের উদ্দেশে তৈরিকৃত মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মানপত্র ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসের হাতে একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। সংবর্ধনার জবাবে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সারা দুনিয়ায় অনেক সম্মান ও সংবর্ধনা পেয়েছি। কিন্তু আজকের সংবর্ধনাটি আমার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাকর ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা এটির আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের জীবনে এমন একটি ঘটনা, যার মধ্য দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বন্ধ দুয়ার খুলে গেছে। কিন্তু সেটাকে আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছি না। এমনকি বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে উন্নয়নের এই দুয়ার খোলা থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোগী হয়ে সামনে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। শান্তির জন্য জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনই আমাদেরকে আপাতত শান্তি দিতে পারে। কোনো একতরফা নির্বাচন শান্তি দিতে পারবে না। তাই সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের নিশ্চিত করতেই হবে। এর আগে বক্তৃতার শুরুতেই তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কি আর বক্তব্য দেবো। আজকাল কোনো বক্তব্য দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের মন্ত্রীরা তা নিয়ে নানারকম মন্তব্য শুরু করে দেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের জন্য বিরাট সম্মান বয়ে এনেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অথচ নিজ দেশেই তাকে আজ নানাভাবে অসম্মানের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশে-বিদেশে এ নিয়ে আমাদেরকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তখন আমি বলি যে, এটা সারা বাংলাদেশের চিত্র নয়। দেশের ১৬ কোটি মানুষ ড. ইউনূসকে সম্মান করে, তারা তার সঙ্গেই আছেন। গুটি কয়েক ঈর্ষাপরায়ণ মানুষ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাকে অসম্মানের চেষ্টা করছে। ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজ ড. ইউনূসকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, এটা অনেক বড় ব্যাপার। তার মতো ব্যক্তিত্বের এমন গৌরবোজ্জ্বলভাবে বিকশিত হওয়াটা মুক্তিযুদ্ধেরই ফসল। তিনি যথার্থই তার সঠিক দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছেন এবং বিশ্বজুড়ে দেশকে সম্মানিত করছেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, সারাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো এ পর্যন্ত ড. ইউনূসকে সম্মাননা দিয়েছে। কিন্তু আজকের সংবর্ধনা তার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতারা আজ তাকে সম্মাননা দিচ্ছে।