গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ারে আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়কের দাবি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু খালেদা জিয়ার নতুন ধারার রাজনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের নতুন ধারা হবে হাওয়া ভবনের পরিবর্তে তুফান ভবন তৈরি করে নতুন করে লুটপাট ও মানুষ হত্যা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থেকে মানুষ হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগের ৩৩ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের আমলে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনে কারচুপি বা অনিয়মের কোন অভিযোগ ওঠেনি। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন যৌক্তিকতাও নেই। এ দাবি এখন অবান্তর।
প্রধান বক্তা মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মায়ের মমতা ও বোনের ভালবাসা দিয়ে সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন করেছেন। আগামী নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীকে নোকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অনির্বাচিত প্রধান মন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন এটাই গণতান্ত্রিক বিধি ।
দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গরবার সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মির্জা আব্দুল জলিল, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়ার উত্তরাঞ্চলের সফরকালীন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস এবং সংবিধান মানলে সংবিধানের বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে । এর কোন বিকল্প নেই । সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন তানভির শাকিল জয় এমপি, ইসহাক হোসেন তালুকদার এমপি, গাজী শফিকুল ইসলাম সফি এমপি, চয়ন ইসলাম এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ মন্ডল, দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান প্রমুখ।
