সব সময় ঘর আলো করে রাখত চন্দ্রমুখী। চন্দ্রমুখীর মুখের এক চিলতে হাসি সব কষ্ট-বেদনা দূর করে দিত বাব-মায়ের। সেই চন্দ্রমুখীর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি সাংবাদিক নাজনীন আক্তার। তাই মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন নাজনীন। কৌশলে বাসায় ফিরে পাঁচ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। সঙ্গে বান্ধবী সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর থাকলেও সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেছে তিনি বুঝতেও পারেননি। আদরের ধন চন্দ্রমুখীর ওপর প্রচণ্ড অভিমানে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন নাজনীন। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও স্থায়ী শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা করছেন চিকিত্সকরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে ধানমণ্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই করা হয়। এই পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার শরীরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। নাজনীন বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন রয়েছেন। নাজনীনের সহকর্মী জনকণ্ঠর সিনিয়র রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ জানান, নাজনীন কথা বলতে না পারলেও বুঝতে পারছেন। এখন পর্যন্ত এক্স-রে করে জানা গেছে, তার বুকের বাম পাশের হাড়, ডান হাতের কনুই ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তার মেরুদণ্ডে দুইটি ফ্যাকচার ধরা পড়েছে। তবে মাথায় তেমন চোট লাগেনি। মেডিক্যাল সূত্র জানায়, ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউর আবাসিক সার্জন ডা. আশরাফ উদ্দিন খান, সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাকিম শাহীন, ডা. হরিদাস সাহা প্রতাপ ও ডা. ডাবলুর তত্ত্বাবধানে নাজনীনের চিকিত্সা চলছে। তারা জানিয়েছেন, নাজনীনের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। কিছুটা সময় লাগলেও চিকিত্সায় তিনি পুরোপুরি সেরে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে নাজনীনের আহত হওয়ার খবর শুনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সোমবার রাতেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। তিনিও নাজনীনের শারীরিক অবস্থা ও চিকিত্সার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। সাংবাদিক দম্পতি নাজনীন-মুকুলের পাঁচ বছর বয়সী শিশু চন্দ্রমুখী মরণ ব্যাধি ‘হেপাটাইটিস সি’ রোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকালে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। মেয়ের মৃত্যুশোকে অস্বাভাবিক আচরণ করেন নাজনীন।
এই ঘটনায় ডিআরইউ সভাপতি শাহেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা এবং সদস্য এক শোক বিবৃতিতে চন্দ্রমুখীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা একই সঙ্গে নাজনীন আক্তারের আশু সুস্থতাও কামনা করেন।
