রেডিওতে রায় শুনেছেন কাদের মোল্লা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছায় তাকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়নি। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সাধারণ সেলেই তাকে রাখা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া পূর্ববর্তী রায় যাবজ্জীবন সাজা অনুযায়ী সাধারণ সেলে রাখা হয়েছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কারা সূত্র জানায়, কারাগারে কাদের মোল্লার সেলে টেলিভিশন সেট নেই। তবে রেডিও আছে। একজন কারারক্ষী জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাদের মোল্লা রেডিও শুনছিলেন। সকালে রায়ের পর রেডিওতে ফাঁসির আদেশের কথা শুনতে পান। পাশাপাশি তিনি একজন কারারক্ষীর কাছ থেকে টেলিভিশনে কী দেখিয়েছে - তা জানতে চান। এসময় তাকে ভীষণ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
এ ব্যাপারে ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে গতকাল পর্যন্ত পৌঁছেনি। কপি পাওয়ার পরপরই কাদের মোল্লাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কি না, তা জানতে চাওয়া হবে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার -২ ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রায় শোনার পর কাদের মোল্লার জন্য কনডেম সেল প্রস্তুত করা হয়েছে। রায়ের কপি পাওয়ার পরই তাকে কনডেম সেলে নিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে কাদের মোল্লা সাধারণ কয়েদি হিসেবে কারাগারে মালির কাজ করতেন।
এর আগে তিনি কারাগারের সুরমা ভবনে বিশেষ বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। সেখানে তিনি টিভি ও পত্রিকা পেতেন । কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার রায়ের পর তার সব সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাকে রেডিও রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, ছেলে হাসান মওদুদ, নাতি নাঈমা আক্তার, ভাতিজা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন তার সঙ্গে দেখা করেন।
