বাংলাদেশ দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল বুধবার বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিন সদস্যের কমিটি কথা বলেছেন জাতীয় দলের ডাচ গোলকিপিং কোচ করনিলিউস কাল্ক, ফিটনেস কোচ ইয়ামালী মুহাম্মদ, ফুটবল দলনেতা শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান এবং সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর সাথে। তদন্ত কমিটির সূত্রে জানা গেছে, কোচরা কমিটিকে জানিয়েছে খেলোয়াড়দের আন্তরিকতার অভাব ছিল। তারা খেলোয়াড়দের উপর দোষ চাপিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি আজ বিকাল তিনটায় চার ফুটবলারকে হাজির হতে বলেছে। এরা হলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এমিলি, ওয়ালী ফয়সাল এবং আতিকুর রহমান মিশু। ফুটবলারদের বাফুফে ভবনে সাফের ব্যর্থতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কমিটি।
সাফে খেলোয়াড়দের ফিটনেস চোখে পড়েনি বাফুফের কর্মকর্তাদের। তদন্ত কমিটির আহবায়ক বাফুফের সহ-সভাপতি বাদল রায় বলেছেন, ‘খেলা দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে টিম ফিট ছিল না। কথাটা আমরা ফিটনেস কোচকে বলেছি। খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ঘাটতি ছিল।’ সে ব্যাপারে ফিটনেস কোচের ব্যাখ্যা শুনেছেন কমিটি। কিন্তু ফিটনেস কোচ কী বলেছেন তা প্রকাশ করেননি তিনি।
কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ ব্যর্থতায় গঠিত তদন্ত কমিটি গুরুত্বের সাথেই এর কারণ অনুসন্ধান করছে বলে জানিয়েছেন। বাদল রায় বলছেন, ‘সাফে রেজাল্ট কী হয়েছে সেটা কোনো ব্যাপার না। দল ভালো খেলবে সেটা সবাই প্রত্যাশা করতে পারি। কারণ আমরাও ফুটবল খেলেছি। কিন্তু এতো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও এই ফলে হতাশ হয়েছি আমরা।’
নেপালে জাতীয় দল ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সহকারী কোচরা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছে বিকল্প খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করার সময় ফুরিয়ে গিয়েছিল বলে ইনজুরি নিয়ে ভুগতে হয়েছে। তদন্ত কমিটি বলছে অনেক খেলোয়াড় ইনজুরি লুকিয়ে রেখেছিল। যখন মাঠে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না তখনই তা জানা গেছে বলে মনে হচ্ছে।
সাফের দলনেতা শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান এবার জাতীয় দলকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অনেক কিছুই জেনেছেন, শুনেছেন। খেলোয়াড়দের দেশাত্মবোধ এবং কোচের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে তার উপলব্ধিজনিত বিভিন্ন তথ্য তিনি তদন্ত কমিটির কাছে প্রকাশ করে থাকলে তা থেকেও অনেক কিছুই বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা অবশ্য জানিয়েছেন তারা সবার সাথেই কথা বলবেন। বাদল রায় জানিয়েছেন এমনকি কোনো দর্শকও যদি কথা বলতে চান সেটা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হবে।
কমিটির অপর দুই সদস্য সামসুল হক চৌধুরী এমপি ও তাবিথ আউয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে নেপালের কাছে ২-০, ভারতের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র এবং শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২-১ পরাস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান খেলোয়াড়রা নেপালে জঘন্য ফুটবল খেলেছেন। এ কারণে নতুন দিল্লীতে অনুষ্ঠিত গত আসরের মতো এবারো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। এই ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতেই তদন্ত হচ্ছে এখন। সাত দিনের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট দেয়ার কথা।
