বিকল্প শিশু খাদ্যে অসুস্থ হলে জেল-জরিমানা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৯
এখন থেকে বিকল্প শিশু খাদ্য ও বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদিত শিশু খাদ্যের কারণে কোন শিশুর মৃত্যু বা অসুস্থ হলে শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এজন্য জেল ও জরিমানার বিধান রেখে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) বিল-২০১৩’ পাস করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বিলটি উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন। গত ১৬ জুলাই সংসদে বিল উত্থাপন করা হলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে বিকল্প শিশু খাদ্য ও শিশুর বাড়তি খাদ্য মায়ের দুধের বিকল্প এমন ধারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে কোন কর্মসূচি পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিকল্প শিশু খাদ্যের বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিলের বিধান অনুযায়ী এই আইনের অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বিকল্প শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত করা শিশুর বাড়তি খাদ্য এবং এই খাদ্য ব্যবহারের সরঞ্জাম সংক্রান্ত সকল প্রকার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিকল্প শিশু খাদ্যের বিক্রি উত্সাহিত করতে কাউকে উপহার, ডিসকাউন্ট দেয়া; সভা-সেমিনার আয়োজন, শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠানের আয়োজনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশু খাদ্যের মোড়কে শিশু বা মায়ের ছবি ব্যবহার করা যাবে না। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিকল্প শিশু খাদ্য ও বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদিত শিশু খাদ্য গ্রহণে মৃত্যু, অসুস্থ বা স্বাস্থ্যহানি ঘটলে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠানের উত্পাদিত পণ্যে শিশু অসুস্থ হলে বা মারা গেলে ঐ প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেয়া হবে। এর আগে সংসদে বিল উত্থাপনের পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম পাস করার আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। অপরদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিল সম্পর্কে একই প্রস্তাব জমা দিলেও তা তাদের অনুপস্থিতির কারণে উত্থাপিত হয়নি। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ২১ মে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ১৯৮৪ সালে ‘দ্যা ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউটস (রেগুলেশন অফ মার্কেটিং) অর্ডিন্যান্স-১৯৮৪ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ইতিমধ্যে মায়ের বুকের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশটির কিছু সীমাবদ্ধতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। বলা যায়, অধ্যাদেশটি শিশু খাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই অধ্যাদেশটি তাই সংশোধন করে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।