যৌন হয়রানি প্রতিরোধ

বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের নির্দেশ

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২১:১৩

বরিশালে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে এক বিশেষ সভায় জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান এ নির্দেশনা দেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি। অভিযোগ বাক্স যেন সঠিকভাবে ব্যবহূত হয় সে জন্য প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাক্সটির চাবি ও খোলার সময় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, শাসনের ছুতোয় কোনো ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে ঘন ঘন সভা করা, কোচিং সেন্টার ও নোটবুক বন্ধের জন্য সভায় নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, গত সপ্তাহে নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক এনামুল হক ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করলেও ছাত্রীদের অভিযোগ নিয়ে বিলম্ব করে প্রতিষ্ঠান প্রধান। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশ ঐ শিক্ষককে আটক করলে টনক নড়ে সকলের। পুলিশ আটকের পর পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে বরখাস্ত ও ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষক এস এম ফখরুজ্জামান নিকট অশালীন আচরণের বিষয়টি জানালেও তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগমকে জানাতে বলেন। নাজমা বেগম অভিযোগ লিখিত আকারে চান ছাত্রীদের নিকট। এরপর লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে হয়নি বলে ছাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিদ্যালয়টির একাধিক অভিভাবক জানান, সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ ও নারী শিক্ষায় নানান সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করলেও এ বিদ্যালয়ে তাদের মেয়েদের পড়াতে ব্যয় হয় মোটা অংকের টাকা। ম্যানেজিং কমিটির নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে নানা ভাউচার দেখিয়ে এ টাকা আদায় করা হলেও শিক্ষার মান বাড়ছে না। ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের কোচিংসহ নানা খরচ যোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এরপর এ ধরনের ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।