সাতক্ষীরায় উত্পাদিত আম এবারো যাবে ইউরোপে

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২১:৩০

মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় উত্পাদিত আম এবারও যাবে ইউরোপে। সনাতন পদ্ধতিতে নয়, বিজ্ঞান ভিত্তিক পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি অবলম্বনে আমচাষিদের ইতোমধ্যে কয়েক দফায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে আম সংগ্রহ এবং তা প্যাকেজিং করে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদেশে আম পাঠাতে সাতক্ষীরার আম চাষিরা এখন পুরোপুরি ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার খুশি চাষিরাও।

সাতক্ষীরায় মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্য স্থানের তুলনায় আগেই বাজারজাত করা যায় সাতক্ষীরার আম। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে গোবিন্দভোগ আমের বাজারজাতকরণ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন সাতক্ষীরার বাজারে। গাছে গাছে সাতক্ষীরার সুমিষ্ট হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোবিন্দভোগ ও আম্রপালি আমের দোলায় মন ভরে যাচ্ছে বাগান মালিকদের। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিদেশে রপ্তানির জন্য গাছে আমের পরিচর্যায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে, ঘূর্ণিঝড় ফণী ও কয়েক দফা শিলাবৃষ্টির কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া আম প্যাকেজিং এবং তা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত করে রাখতে যা যা করণীয় তা নিয়েও প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন চাষিরা। এ ক্ষেত্রে তারা সনাতন পদ্ধতি এড়িয়ে চলেছেন। জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির ওপর। বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আম সংগ্রহে কিভাবে নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাদের।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক আলী রেজা জানান, এক বিঘা জমিতে তার আম চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সব কিছু বাদ দিয়ে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে তিনি ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার আম বিক্রি করবেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, সাতক্ষীরা জেলার আম খুব সুস্বাদু। এ কারণে এ জেলার আম খুব জনপ্রিয়। এ জেলার আম অন্যান্য জেলার আগে পাকা শুরু হয়। সাতক্ষীরা জেলায় এবার ৪ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আমে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। তিনি আরো জানান, গত বছর সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হলেও এবার তার চেয়ে বেশি রপ্তানি হবে।