বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমের ১০ বছরের হিসাবের খাতা ও কাগজপত্র গায়েব করে দিয়ে বিশাল অংকের টাকা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সাবেক সভাপতি, সাবেক স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কোষাধ্যক্ষকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে। সাবেক স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দাশকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত ও অব্যাহতি দিয়েছে আশ্রমের উপদেষ্টামণ্ডলী।
আশ্রমের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সদস্য ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দাশ, ভোলানাথ দাস, উজ্জল কুমার বনিক, সঞ্জয় কুমার বনিক বলেছেন, আশ্রমের ১০ বছরের হিসাবের খাতা ও কাগজপত্র গায়েব করে দিয়েছেন সাবেক তিন কর্মকর্তা। কোটি কোটি টাকা লোপট করা হয়েছে।
তারা বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের আশ্রম ও মন্দিরের টাকার প্রণামীর কোটি কোটি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও জিনিসপত্রের হিসাবের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। হিসাবের কাগজপত্র গায়েব করে দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দাশ। টাকা আত্মসাতের দায়ে আশ্রম ও মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ থাকাকালে তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আশ্রমের উপদেষ্টামণ্ডলী।
আশ্রম ও মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সাহা মারা যাওয়ার পর সহকারী সম্পাদক সুভাষ সাহা নিজেকে স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে আশ্রম ও মন্দিরের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি নিজেকে স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে আশ্রমের সঙ্গে চালের ব্যবসা, লাকড়ির ব্যবসার নামে অতিরিক্ত টাকা ও কমিশন খেয়ে রাতারাতি বাড়িঘর ও দোকানের চেহারা পাল্টে ফেলেন। আশ্রমের উপদেষ্টামণ্ডলী তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
আশ্রমের আরেক সদস্য রতন কুমার বনিককে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত করেছেন উপদেষ্টমণ্ডলী। তিনি লাকড়ি কেনার দায়িত্বে থেকে অতিরিক্ত কমিশন খাওয়ার মাধ্যমে লোপাট করেছেন লাখ লাখ টাকা। সুভাষ সাহার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মানি অর্ডারের টাকার হিসাব দিয়ে দিয়েছেন এবং কোন ধরনের অর্থ আত্মসাত্ করেননি। প্রদীপ কুমার দাশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকের কাছে হিসাব তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। রতন কুমার বনিকও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সভাপতি, সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে আমি কিভাবে স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাত্ করব ?
বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকের নেতৃত্বে গত জ্যৈষ্ঠ মাসে এক আপস মীমাংসার বৈঠকে অভিযুক্ত বরখাস্ত হওয়া সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্ত হওয়া সাবেক সদস্য রতন কুমার বনিক তাদের কাছে থাকা হিসাব ২ মাসের মধ্যে বুঝিয়ে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তারা হিসাব দেননি। দুর্নীতিবাজদের রাহুগ্রাস থেকে আশ্রমটি রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন ভক্তবৃন্দ।
