ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
ফুলবাড়িতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে দুলছে সোনালি ধান। কৃষকরাও খুশি ছিলেন। কিন্তু ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় শ্রমিককে দিয়ে ধান কাটতে গৃহস্থকে গুনতে হচ্ছে প্রতি বিঘা জমিতে দূরত্ব ভেদে ১০ থেকে ১৫ মণ ধান। আর রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে গুনতে হচ্ছে প্রতি বিঘায় দূরত্ব ভেদে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। চুক্তি অনুযায়ী এর সঙ্গে শ্রমিকদের তিন বেলা খাওয়ারও যোগান দিতে হচ্ছে গৃহস্থকে। এতে ধান কাটতে অর্ধেক চলে যাচ্ছে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে।
উপজেলার চোকিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, বোরো ধানের ফলন নিয়ে খুশি ছিলেন তিনিসহ এলাকার কৃষকরা। কিন্তু ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে এখন বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ একজন ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। অথচ বোরো ধান চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, চারা লাগানো, জমি পরিষ্কার করা, ধান কাটা শ্রমিক খরচসহ প্রতি মণ ধানে উত্পাদন খরচ পড়ছে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। কিন্তু হাটবাজারে জাতভেদে ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। এতে প্রতি মণ ধানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী সারাদেশে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় একসাথে জমির ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় মজুরি বেড়ে গেছে।
