স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করে ‘হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৮
লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম আজকাল বেশকিছু সেবামূলক কাজে নিজেদের যুক্ত করেছে। কেউবা পথশিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছে, কেউবা পথচারীদের নানাভাবে সচেতন করছে আবার কেউ কেউ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া শিশুদের দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। এমন একটি সেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স ফাউন্ডেশন’। ‘হাউজ অব ভলান্টিয়ার্সে’ কাজ করে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা সমাজের মানুষদের বিভিন্ন ধরনের কাজে সচেতন করে থাকেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের কল্যাণে আসে তেমন কিছু প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে ব্যতিক্রমধর্মী এই ফাউন্ডেশনটি গড়ে তোলেন প্রেসিডেন্ট মো. আহসানউল্লাহ খান ফয়সাল। এমন উদ্যোগের পেছনের কথা বলতে গিয়ে ফয়সাল জানালেন, ইউএসএ’র বোস্টনে এমআইটি’র কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আইডিয়া নিয়ে আমরা এমন একটি ফাউন্ডেশন করার চিন্তা করি যেটা হবে জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ২০০৭ সালের দিকে আমরা কয়েকজন মিলে কাজ শুরু করি। পরে ২০০৯ সালে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়েই আমাদের এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তারা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে সংগঠনে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। প্রথমে আমরা দুইটি প্রজেক্টের কাজ শুরু করি। একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ অন্যটি স্কুলের শিশুদের ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতন করা। রাজধানীর ‘আর্মানিটোলা স্কুল’ ও ‘আহমেদ বাওয়ানী স্কুল’ দুইটিতে নিজেদের অর্থায়নে পাইলট প্রকল্পের কাজ করি। পাইলট প্রকল্পে সফলতা পাওয়ার পর ১০টি স্কুলে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কাজ পাই। নতুন প্রকল্পে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভূমিকম্পের আগে ও পরে করণীয় বিষয়গুলো শেখানোর কাজ করে যাচ্ছি। হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স ফাউন্ডেশনের অন্য প্রজেক্টটি হচ্ছে ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। তাদের এ প্রজেক্ট সম্পর্কে ফয়সাল বললেন, আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লাতে দুইটি এবং সেভরনের স্পন্সারশিপে সিলেটে দুইটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। কম্পিউটার শিক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে। এ কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানালেন ফাউন্ডেশনের এ কর্ণধার। তার মতে, ভালো কাজ করতে সব থেকে বেশি প্রয়োজন মানসিকতার। কেউ যদি সমাজের জন্য কিছু করতে চায় তাহলে অনেক সীমিত সম্পদেও বড় কিছু করা সম্ভব। আমরা আমাদের সাধ্যমত করার চেষ্টা করছি। তবে অনেক সময় প্রকল্প বাড়াতে গিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ে যাচ্ছি। কিছু কিছু প্রকল্প করতে আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে ডোনারের। দুই-একজন ভালো ডোনার পেলে আমরা বিশ্বাস করি আমরা আমাদের প্রকল্পকে আরো এগিয়ে নিতে পারবো। ইতিমধ্যে সেভরনের মতো বড়ো প্রতিষ্ঠান আমাদের স্পন্সর করছে।