দেখা হয় নাই

বিনত বিবির মসজিদ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৫
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো পুরোনো ঢাকার বিনত বিবির মসজিদ-এর কথা। ঢাকার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদগুলোর মধ্যে বিনত বিবির মসজিদ অন্যতম। এটি পুরানো ঢাকায় অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় মসজিদ। নারিন্দা পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে উত্কীর্ণ শিলালিপি অনুসারে ৮৬১ হিজরি সালে, অর্থাত্ ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। ইসলাম খাঁর আগমনের প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে পারস্য উপসাগরের আশপাশের অধিবাসীরা প্রায়ই জলপথে এখানে বাণিজ্য করতে আসতেন। তখন পুরান ঢাকার এ অঞ্চলটির (নারিন্দা-ধোলাই খাল) ওপর দিয়ে বয়ে যেত বুড়িগঙ্গার একটি শাখা যা বুড়িগঙ্গা হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মিশত। আরাকান আলী নামক এক সওদাগর তত্কালীন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এ এলাকায় আসেন এবং বসবাস শুরু করেন। সওদাগরদের এ সময় নামাজ পড়তে অসুবিধা হতো বিধায় আরাকান আলী এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এখানে বসবাসকালীন আরাকান আলীর মেয়ে বিনত বিবির আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। তাকে মসজিদের পাশেই সমাধিস্থ করা হয়। এর ঠিক ছয় মাস পরই আরাকান আলী মৃত্যুবরণ করেন এবং তার শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে বিনত বিবির কবরের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। পরবর্তীতে বিনত বিবির নামে এ মসজিদটির নামকরণ করা হয়। মসজিদটি চৌকোনা এবং এতে দুইটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির দেয়ালে একটি কালো পাথরে এখনো ফার্সি ভাষায় পুরো ইতিহাসটির বর্ণনা করা আছে। হিজরি ৮৬১তে নারিন্দা রোডে অবস্থিত এ মসজিদটির প্রথম সংস্করণ করা হয়। পরবর্তীতে ৮৬৬ হিজরিতে বিনত বিবি ও আরাকান আলীর সমাধিস্থলে বিনত বিবির মাজারটি স্থাপন করা হয়। বাংলা ১৩৩৭ সালে মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয় এবং দ্বিতীয় গুম্বুজটি স্থাপন করা হয়। প্রায় ২০০ বছর ধরে এলাকাবাসী একটি কমিটি গঠন করে এ মসজিদটির দেখাশোনা করে আসছেন।