রমজানে ভোগান্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষ
সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
রমজানে টিসিবির ডিলাররা মালামাল তুলছেন না। সারা জেলায় নিয়োজিত ২০ ডিলারের মধ্যে মাত্র দু’জন ডিলার একবার মালামাল তুলেছেন। অন্যদিকে টিসিবির সিলেট অঞ্চলের জন্য চার জেলা শহরে (ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ) গত ২৩ এপ্রিল থেকে টিসিবির পণ্য ট্রাকে করে খোলাবাজারে বিক্রয় শুরু হলেও সুনামগঞ্জে টিসিবির পণ্য বিক্রয় হচ্ছে না। টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো.ইসমাইল মজুমদার জানান,গত ২৩ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সিলেট অঞ্চলের অধীনের জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট শহরে ট্রাকে করে খোলাবাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে তারা টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যকর করতে পারছেন না বলে জানান। তিনি জানান, ট্রাক দিয়ে শহরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করাতেও ডিলারদের রাজি করানো যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো.সফিউল আলম বলেন, ‘আমরা ডিলারদের ডেকে এনে টিসিবির পণ্য তোলার জন্য অনুরোধ করেছি। আবারো সবাইকে পণ্য তোলার জন্য বলবো। রমজানে কম দামে অতিপ্রয়োজনী দ্রব্য সরবরাহ করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু হয়েছে সারাদেশে। বাজারে চিনির কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মুসুর ডাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ছোলা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রয় হচ্ছে। অথচ টিসিবির চিনি প্রতি কেজি ৪৭ টাকা, মুসুর ডাল ৪৪ টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা এবং ছোলা ৬০ টাকা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভোক্তাদের এই মূল্যে বিক্রয় করার পরও ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী অর্থাত্ সুনামগঞ্জে এনে এই মালামাল বিক্রয় করলে ডিলাররা প্রতি কেজিতে সাড়ে চার টাকা কমিশন পাবেন। এরপরও জেলার ১৮ জন ডিলার টিসিবির পণ্য তুলছেন না।
দোয়ারাবাজারের আমবাড়ীর দুর্গা ভাণ্ডারের মালিক কৃপা সিন্ধু রায় এবার টিসিবির পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সঠিক হয়েছে স্বীকার করে বললেন,‘আমি খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ী, টিসিবির পণ্য এনে বিক্রয় করতে না পারলে লোকসান। তিনি বলেন, মালামাল বেশি না দিলে, এতো কম মাল এনে ট্রাক ভাড়া দিয়ে পোষাবে না। দোয়ারাবাজারের মেসার্স বিনয় ট্রেডার্সের মালিক বিনয় চক্রবর্তী বলেন,‘টিসিবির পণ্য কেউ কিনে না, এজন্য তুলিনি, প্রতিবছর লোকসান গুনতে হয়। এজন্য এবার মালামাল তুলবো না’।
