আগের রাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হ্যাটট্রিক হাঁকানোর পর লিওনেল মেসিও এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুম শুরু করলেন একই নৈপুণ্য দিয়ে। তাতে শিরোপা প্রত্যাশী বার্সেলোনা গত বুধবার ৪-০ গোলে হারাল আয়াক্স আমস্টার্ডামকে। তবে এ রাতের খেলাগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলের কাছে কোচ হোসে মরিনহোর চেলসির হার বিস্মিত করেছে ফুটবলামোদীদের। গেলবারের রানার্স আপ
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও শুরু করেছে হার দিয়ে। সে তুলনায় ইনজুরির দুর্দশার মধ্যেও জিতেছে এসি মিলান। এদিকে আর্সেনাল টানা ১৬তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চূড়ান্ত পর্ব শুরু করলো জয় দিয়ে।
লন্ডনে চেলসির মাঠে সুইসরা পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয় আদায় করে নেয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সূচনায় এটাই হলো চেলসির প্রথমবারের মতো হারের ঘটনা। ফলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মরিনহোর দ্বিতীয় পর্বটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়লো। গত মৌসুমের রানার্স আপ ডর্টমুন্ড ইতালিতে খেলতে গেলে নেপোলি নিজ মাঠে অতিথিদের হারিয়ে দেয় ২-১ গোলে। এর মধ্যে আবার জার্মান ক্লাবটির কোচ জুর্গেন কপ ও গোলরক্ষক রোমান ওয়েইডেনফেলারকে মাঠ ছাড়া করেন রেফারি। এই রাউন্ডের অন্য খেলাগুলোয় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ৩-১ গোলে জেনিত সেন্ট পিটার্সবুর্গকে, শালকে ৩-০ গোলে স্টুয়া বুখারেস্টকে এবং পোর্তো ১-০ গোলে ভিয়েনার মাঠে জয়ী হয়।
বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো ও ব্রাজিল তারকা নেইমার ডাচ দলটির বিরুদ্ধে জয় দিয়ে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এ আসরটিতে অভিষেক নেন। মার্টিনো অবশ্য তার স্বদেশী মেসি ও গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি বলেন,‘বার্সেলোনা হচ্ছে মেধাবিদের সমাহার। আজ আমরা মেসি ও ভালদেসকে নিয়ে কথা বলতে পারি। অন্যদিন বলবো জাবি ও নেইমারকে নিয়ে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে তাদের যে কোন একজন পরিস্থিতি বুঝে হাল ধরবে।’
বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে নিজের ৮০তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ৬০, ৬১ ও ৬২তম গোলটি করেন মেসি। চারবার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়া আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ২২তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন। আয়াক্সের সীমানায় মেসিকে ফাউল করা হলে তা থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকটি চমত্কারভাবে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৫৫ মিনিটে স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি।
নেইমার নিজের অভিষেকে গোল না পেলেও ৬৯ মিনিটে জেরার্ড পিকের নেয়া দলের তৃতীয় গোলটি রচে দেন। ৭৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলারটি। এ জয়ে বার্সেলোনা ও মিলান ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে থাকলো।
মেসি এই গোলগুলোর সুবাদে রাউল গঞ্জালেসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বাধিক লক্ষ্যভেদের (৭১) রেকর্ডটি থেকে আর কেবল নয় গোল দূরে থাকলেন।
সাতবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন এসি মিলান নিজের মাঠে ২-০ গোলে সেল্টিকের বিরুদ্ধে জিতেছে। দুটি গোলই হয় শেষ দিকে। খেলা শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে বিপক্ষের আত্মঘাতী গোল থেকে এগিয়ে যায় এসি মিলান। এর দুই মিনিট পর সুলে মুনতারির গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রোসোনেরিদের।
অলিম্পিক মার্সেইর বিরুদ্ধে আর্সেনালের ২-১ ব্যবধানের জয়ে গোল দুটি করেন থিও ওয়ালকট এবং অ্যারন র্যামসে। ফরাসি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের নিজের দেশে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে জয়ের সুবাদে আর্সেনাল এখন ‘এফ’ গ্রুপে নেপোলির সাথে শীর্ষে অবস্থান নিল।
চেলসির হারে রেফারির শেষ বাঁশির পর দুয়োধ্বনি ওঠে স্টামফোর্ড ব্রিজে। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় ৮২ মিনিটে মার্কো স্ট্রেলার হেডে পিটার চেককে পরাস্ত করলে বাসেলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সুইস ক্লাবটি এই প্রথম ইংল্যান্ডে কোন জয় পেল। দলের এই হারের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন মরিনহো । তিনি বলেন,‘সব কিছুর জন্য আমিই দায়ী। বিশেষ করে খারাপ কিছু হলে। ভাল সময়ে আমি সবাইকে জ্বলে উঠতে দেই। বাজে মুহূর্তে আমি চাই সবাই শান্ত থাকুক।’
ব্রাজিলীয় অস্কার বিরতির আগেই চেলসিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৭১ মিনিটে মোহামেদ সালাহ অতিথিদের হয়ে সমতা ফেরান। ফলে এক দশক ধরে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের মালিকানায় থাকা চেলসির এটাই হলো মৌসুমের সবচাইতে বাজে সূচনা।
বাসেল ও জার্মান ক্লাব শালকে এ জয়ে ‘ই’ গ্রুপে এগিয়ে থাকলো।
