সাফ তদন্ত কমিটির মুখোমুখি

‘ক্লান্তি’র দোহাই দিলেন ফুটবলাররা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৯
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রথম দিন জেনেছেন খেলোয়াড়দের ইনজুরি সমস্যর কথা। গতকাল দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে ডাকা চার ফুটবলারের কাছ থেকে তদন্ত কমিটি জানল খেলোয়াড়দের ক্লান্তির কথা। গতকাল বিকালে বাফুফে ভবনে জাতীয় দলের সিনিয়র চার ফুটবলার জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান মিশু, ওয়ালী ফয়সাল এবং এমিলিকে তলব করেছিল তদন্ত কমিটি। এদের মধ্যে মামুনুল ইসলাম ছাড়া খেলোয়াড়দের কথায় ঘুরে-ফিরে উঠে এসেছে ক্লান্তি ও শরীর না চলার কথা। ওয়ালী ফয়সাল বলেন,‘আমরা নেপালে মার্চে চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে যে খেলাটা খেলেছিলাম সেটা যদি খেলতে পারতাম তাহলে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসতাম।’ কিন্তু কেন সেটা হলো না ? ওয়ালীর কথা হচ্ছে ‘আমাদের অতিরিক্ত ফিটনেস হয়ে গিয়েছিল। কারণ আমরা লিগের পর পরই অনুশীলনে নেমেছিলাম। আমরা তো মানুষ। আমাদের তো বিশ্রাম দরকার। আমরা তো আর মেশিন না।’ দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের দিকে। ওয়ালী ফয়সাল বলছেন, দেশকে কিছু না দিতে পারলে আমরাই কষ্ট পাই। আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা নানা রকম কথা বলছে। কেন এমন খেললাম তা নিয়ে কটুক্তি করে।’ ডাক পাওয়া ফুটবলাররা একজন একজন করে বাফুফের সভারুমে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে জবাবদিহি করেছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসলে সংবাদকর্মীরা ঘিরে ধরে জানতে চাইছেন কী কথা হয়েছে ভেতরে। স্ট্রাইকার এমিলি সাফে নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ক্লান্ত ছিলাম। খেলতে পারছিলাম না। আমি কেন কেউ নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলতে পারেনি।’ সাফে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোল করা স্ট্রাইকার এমিলি অবশ্য বাফুফের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে জাতীয় দলের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘গোল করার পর আমরা গোল খেয়ে ফেলি। এটাই বড় সমস্যা। এগুলো সমাধান করতে হবে।’ সেটপিসে বাংলাদেশ দুর্বল বলেই ডাচ কোচ ক্রুইফ সেটপিস নিয়ে কাজ করেছেন। তারপরও পাঁচ গোলের মধ্যে বাংলাদেশ চার গোল হজম করেছে সেটপিস থেকে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমিলি বলেন, ‘জোনাল মার্কিং ভালো ছিল না।’ ভারতের বিরুদ্ধে উইংব্যাক মিশুর গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। মিশু বলেছেন,‘সাফে তাদের মনোযোগের ঘাটতি ছিল। মানসিকভাবে আরো তৈরি হওয়া উচিত আমাদের।’ তিনি ক্লান্তির কথাটা সরাসরি উল্লেখ না করলেও বলেছেন, ‘রিকভারিটা আরো হলে ভালো হতো।’ মিশুর কাছেও পা বাঁচানো ফুটবল খেলার কথা জানতে চাওয়া হলে তার জবাব-‘খেলতে নেমে আমি এসব নিয়ে ভাবি না। রাস্তায় নামলেও আমি হোঁচট খেয়ে পা ভাঙ্গতে পারি।’ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে খেলেছি কি-না সেটা কোচই বলতে পারবেন। ক্লাবের জন্য জাতীয় দলে ভালো খেলেনি এ কথাটা ঠিক না।’ সাফের ব্যর্থতার কারণ দেখাতে গিয়ে বলেছেন,‘ইনজুরি এবং দুর্ভাগ্য আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।’ শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের হার সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা যখন ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করে ফেলেছি তখন ম্যাচ জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি। কারণ পাকিস্তানের সাথে ড্র করে আসাটা কেউ ভালো চোখেও দেখতো না। আমরা জেতার জন্য ঝাঁপিয়ে ছিলাম।’ মিশু বললেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিডফিল্ডের একটা ভুল পাসে গোল খেয়েছি আমরা। মিডফিল্ড ডিফেন্সে সাপোর্ট দিতে পারছিল না।’ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম অবশ্য সব কিছু মুছে ফেলতে পরামর্শ দিচ্ছেন, ‘অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। ক্লাসের ভালো ছাত্রের মতো হাত উঁচিয়ে বলে দেয়া ভালো আমার এই দোষ। দুই বছর পর সাফ। সেটা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি।’