প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল, সুসজ্জিত ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে তার সরকারের সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
নবগঠিত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলনের পর গতকাল ঢাকা সেনানিবাসের ২০ বীর-এর প্রশিক্ষণ মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর দরবারে ভাষণকালে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়ন, ৫৮ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ৩৪ বাংলাদেশ আর্টিলারি রেজিমেন্টকে নিয়ে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ এডহক আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের হ্যাংগারে এক অনুষ্ঠানে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন করেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ৫৮ ইস্টবেঙ্গলের পতাকা, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ৩৪ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের পতাকা এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়নের পতাকা উত্তোলন করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারী, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দরবারে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফোর্সেস গোল-২০০৩-এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন ইনফ্যান্টারি, আর্মার, আর্টেলারি, বিমান প্রতিরক্ষা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ভিত রচনা এবং প্রতিরক্ষা নীতি ১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মেয়াদে সেনাবাহিনী সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একে বিশ্বমানের আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারও পুনর্নির্মাণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
