গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ভোটের অধিকার হাইজ্যাক হয়ে গেলে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ জনগণই হচ্ছে রাষ্ট্র ও ভোটের মালিক। তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা জনগণ আর চায় না।
গতকাল লালদীঘির ময়দানে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও বিকল্প ধারার উদ্যোগে জাতীয় স্বার্থে ‘জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে’ আয়োজিত জনসভায় ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ সকল ক্ষেত্রে দলীয়করণ চরম আকার ধারণ করেছে। জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।
নিরপেক্ষতা ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশে একদিন নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল বলেই নিরপেক্ষতার জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল। জনগণ চায় ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ জনগণ চায় কার্যকর সংসদ, কার্যকর বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন।
ড. কামাল হোসেন গত সাড়ে চার বছরে দেশে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, দিন-বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। গত তিন বছরে ৬১ জন বিচারক নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৬০ বছরে এদেশে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। দুদক, নির্বাচন কমিশনকে দুর্বল করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান বলেন, রাস্তা-ফ্লাইওভার বানালেই উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের অর্থ হলো জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি। যা আজো অর্জিত হয়নি।
বিশেষ অতিথি নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশ এবং জাতি আজ এক মহাসংকটকাল অতিক্রম করছে। গণতন্ত্রের বিকল্প নাই, গায়ের জোরের নির্বাচন আমরা মানবো না।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম নেতা এডভোকেট আবদুল মোমিন। বক্তব্য রাখেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক এমপি এসএম আকরাম, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমদ, নাগরিক ঐক্য নেতা শহিদুল্লাহ কায়সার, ডা. আলাউদ্দিন ভুঁইয়া, রতন ব্যানার্জি, মাহমুদুর রহমান শাওন প্রমুখ।
