১৪ বছরেও চালু হয়নি চট্টগ্রাম কেইপিজেড

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৬
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সরকারের উদাসীনতায় দীর্ঘ ১৪ বছরেও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা যায়নি চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় অবস্থিত কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সরকারের কাছ থেকে শুধু দু’টি লাইসেন্স পেতে কেইপিজেডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত গ্যাস, পানি ও বিদ্যুত্ সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনেও বিশ্বমানের এ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলটি চালু না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরকারের আন্তরিকতা, বিনিয়োগ নীতিমালা ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেইপিজেড সূত্র জানায়, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে প্রায় একশ’টি শিল্প স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে । এখানে প্রায় ৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রতি বছর রফতানি খাত থেকে আয় হবে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়া সরকারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট ইপিজেড আইন, ১৯৯৬ মেনে ইয়ং ওয়ান করপোরেশন কোরিয়া ইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে রেজিস্ট্রেশন করে। ক্রয় ও মালিকানা সম্পর্কিত নিয়মাবলী প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে কোরিয়ান ইপিজেড জমি বরাদ্দ পায়। তত্কালীন মৌজা মূল্য অনুয়ায়ী ২৫ হাজার ৮৪ একর ভূমির জন্য ৬৮ কোটি টাকা পরিশোধ করে তারা। বাকি ছিল শুধুমাত্র ভূমি মিউটেশান (নামজারি)। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছরেও নামজারি করতে দেয়নি সরকার। এখন বলা হচ্ছে, মাত্র ৫শ’ একর ভূমি নামজারি করা যেতে পারে। কেন বরাদ্দকৃত পুরো ভূমি নামজারি করা হবে না তার কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না সরকার। সূত্র জানায়, নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পেরিয়ে আবেদনের ৮ বছর পর ২০০৭ অপারেশনাল লাইসেন্স এবং ৭ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০০৯ সালে সরকার কেইপিজেডকে পরিবেশ ছাড়পত্র ইস্যু করে। বিধিবদ্ধ রেগুলেটরি অর্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পায় ২০১০ সালে। এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ইয়াং ওয়ান করপোরেশন সেখানে অত্যাধুনিক একটি জুতো কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছে। যা প্রথম ধাপে ৪টি ইউনিটে উত্পাদন ও রফতানি করছে। কেইপিজেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মো. হাসান নাসির জানান, প্রাইভেট ইপিজেড সেল এর ১৮তম বোর্ড অব গভরনর্স এর সভায় বিশেষ এই অর্থনৈতিক এলাকাটির উন্নয়ন কাজ আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে যে সব জটিলতা এবং প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে জটিলতা এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসন করা জরুরি। তিনি নিরবচ্ছিন্ন উত্পাদন এবং রপ্তানির স্বার্থে কেইপিজেডে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া বিদ্যুত্ সংযোগ পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানান।