রাজধানীতে চোরাগোপ্তা হামলা ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৯
জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ২০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ধানমন্ডিতে চোরাগোপ্তা হামলায় দুদকের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। শ্যামলী, মগবাজার ও প্রগতি সরণির শাহজাদপুরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, লালবাগ ও আজিমপুরে টহল পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর, মিছিল, পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রেন, লঞ্চ, বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। নগরীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। বাড্ডার মাদারটেক এলাকা থেকে গান পাউডার ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে ইবনেসিনা হাসপাতালের সামনে হরতাল সমর্থক ১০/১২ জন আতর্কিতভাবে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তারা ৩/৪টি গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। তাদের হামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক ও হলমার্কের দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মীর জয়নুল আবেদিন শিবলী ও আরেক উপ-পরিচালক মফিদুল ইসলাম আহত হন। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে হরতাল সমর্থকরা পালিয়ে যায়। সকাল ৮টার দিকে লালবাগ ‘চাঁন তারা’ মসজিদের গলি দিয়ে কয়েকজন জামায়াত-শিবিরকর্মী একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে তারা দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। লালবাগ থানার ওসি নুরুল মুত্তাকীন বলেন, ভাংচুর হয়নি, গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি ইট ছুড়েছিল তারা। সকাল সোয়া ৭টার দিকে ডেমরার কাজলা এলাকার এক গলি থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল ৭টার দিকে শ্যামলী এলাকায় শিবির কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। তারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশ এসে ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় সেখানে পুলিশের সাথে পিকেটারদের কিছু সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ একজনকে আটক করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আজিমপুর মোড় এলাকায় তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল ৬টার দিকে মগবাজার মোড় এলাকায় হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় পুলিশ এলে কিছু সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার চলে। সকালে বাড্ডার মাদারটেক এলাকায় গান পাউডারের পাশাপাশি একটি ওয়ান শুটার গান, তিনটি হাতবোমা, কয়েকটি কৌটা এবং ছোট ছোট পাথরসহ আতাউর রহমান (৩৫) ও মো. মানিক (২২) নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে। হরতালে সহিংসতা সৃষ্টির জন্য তাদের এসব অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে র্যাব জানায়। সকালে যাত্রাবাড়ীর মীরহাজীরবাগ তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার গলি থেকে হরতাল সমর্থনে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ১০ শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। বেলা ১০টায় ধোলাইখাল এলাকার লালমোহন শাহা স্ট্রিট ট্রাকস্ট্যান্ডে ১০/১৫ জন শিবিরকর্মী হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে তারা দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করেন এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে অবিস্ফোরিত অবস্থায় নিক্ষিপ্ত দু’টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল ৭টার দিকে প্রগতি সরণির শাহজাদপুরে ঝটিকা মিছিল থেকে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। পরে পুলিশ এলে তারা পালিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৭টায় আজিমপুর এতিমখানা মোড় থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে শিবিরকর্মীরা। মিছিলটি ইডেন কলেজের দিকে যেতে চাইলে টহলরত পুলিশের সামনে পড়ে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিবিরকর্মীরা পাল্টা কয়েকটি ককটেল ?বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তার পাশে থাকা পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। সকাল ৭টা ৫ মিনিটে কাজলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করে হরতাল সমর্থকরা। মিছিল থেকে তারা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং রাস্তা আটকে একটি স্টাফ বাস ভাঙচুর করে। সকাল সাড়ে ৬টায় শনিরআখড়া এলাকায় শনি মন্দির সংলগ্ন পলাশপুর গলিতে হরতাল সমর্থকরা মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একজনকে আটক করে পুলিশ। সকাল ৮টার দিকে শাহজাহানপুরে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।