কর্মস্থল থেকে ২১ হাজার পাউন্ড চুরির দায়ে নেকাব পরা এক মুসলিম নারীকে এক বছরের জেলদণ্ড দিয়েছে ব্রিটেনের একটি আদালত। সাহিদা লরগেট নামের ৪৯ বছর বয়সী এ নারী পরিচয় গোপন রাখতে মুসলিম মূল্যবোধের কথা বলে সব সময় আদালতে নেকাব পরে থাকতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ল্যাংকাশায়ারের প্রেসটন ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করে।
অন্য একটি মামলায় ব্রিটেনের আদালত অপর এক মুসলিম নারীকে সাক্ষ্য দেয়ার সময় অবশ্যই নেকাব খোলার নির্দেশ দেয়ার একদিন পরই এই ঘটনা ঘটল। আইনি কারণে নাম প্রকাশ না হওয়া ঐ নারী আদালতে নেকাব খুলতে রাজি না হওয়ার ঘটনাটি ব্রিটেনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সর্বশেষ আদালত মত দেয়, সাক্ষ্য দেয়ার সময় অবশ্যই বিচারকের সামনে তাকে নেকাব খুলতে হবে। এ সময় একটি পর্দা দিয়ে অন্যদের কাছ থেকে তাকে আড়াল করার ব্যবস্থা থাকবে। এদিকে গত দু’সপ্তাহ ধরে দেশটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালে হিজাব বা নেকাবের মত পোশাক পরিধানের উপযুক্ততা নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনে মাদানী গার্লস স্কুল এবং আয়শা সিদ্দিকা স্কুলে ছাত্রীদের বোরখা পরার বাধ্যবাধকতার সমালোচনা করে গতকাল ব্রিটেনের গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। এমন অবস্থায় অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে মুসলিম নারী সাহিদার জেলদণ্ড ব্রিটিশ সমাজে নেকাব সম্পর্কে খারাপ ধারণাকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাহিদা লরগেট একটি কলেজে ক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কলেজের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ফ্লোরিডায় অবকাশ যাপন, এ্যালটন টাওয়ার ভ্রমণ, নিজ বাড়ির সাজসজ্জাসহ স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের মামলায় উকিলের বিল পরিশোধ করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। সাহিদার এক প্রতিবেশী বলেন, তিনি তাকে মাথায় স্কার্ফ পরা অবস্থায় দেখলেও কখনো নেকাব পরতে দেখেননি। ফেসবুকের ছবিগুলোতেও তার নেকাব নেই। মামলার রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় পুলিশ সাহিদার ছবি প্রকাশ করে যেমনটি তারা যে কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির বেলায় করে থাকে।
