একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে ফাঁসির রায় দিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এইচআরডব্লিউ অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতার শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিতে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে এই বিচার হতে হবে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। এ বিচার প্রক্রিয়ায় এইচআরডব্লিউ কখনো অভিযুক্ত কোনো দোষী বা নির্দোষীর পক্ষাবলম্বন করেনি। বিবৃতিতে, এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এডামস বলেন, এইচআরডব্লিউ সবসময় ১৯৭১ সালে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার দাবি করেছে। কিন্তু এই বিচার অবশ্যই স্বচ্ছ ও যথাযথ আইন মেনে হওয়া উচিত। আইন পরিবর্তন এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে কাদের মোল্লাকে ৬টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষি সাব্যস্ত করা হয়। একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। রায়ের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র বিরোধিতা করে। এর পর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ পরিবর্তন করে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পায় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে কাদের মোল্লার পক্ষেও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কাদের মোল্লার আপিল খারিজ করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এইচআরডব্লিউ বলছে, এই আইন পরিবর্তনের বিষয়টি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক যে আইন রয়েছে তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর বাংলাদেশ এই আইনের একটি পক্ষ।
বাংলাদেশের সংবিধানের এই সংশোধন যা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তের কিছু মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে- সেই আইন রহিত করা উচিত। এছাড়া এইচআরডব্লিউ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। এডাম বলেন, জনগণকে খুশি করার বদলে সরকারের উচিত বর্বরতা চর্চার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক ধারায় যুক্ত হওয়া।
