বাল্যবিয়ে বন্ধে কয়েকটি উন্নয়ন সংগঠনের জোট গঠন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৭
বাল্যবিয়ে বন্ধে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক গোল টেবিল বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপারসন আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেছেন, বাল্যবিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। এর কারণে ছেলে-মেয়ে উভয় শিশুরই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এতে শুধু শিশু বা তার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এতে দেশ হয় অপুষ্ট ও দুর্বল মেধাহীন ভবিষ্যত্ প্রজন্মের উত্তরাধিকারী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক শীপা হাফিজা এই জোট সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘গার্লস নট ব্রাইডস’ (Girls not Brides-GNB: The Global Partnership to End child marriage) বাল্যবিয়ে অবসানে কর্মরত বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যেখানে বর্তমানে ৫৩টি দেশের ২৮৬ জন সদস্য যুক্ত রয়েছেন। বাল্যবিয়ের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম প্রসারের লক্ষ্যে ২০১২ সালে জিএনবি বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স (GNB Bangladesh Alliance)-এর যাত্রা শুরু হয়। তিনি জানান, ব্র্যাক এই জোটের সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করছে। ব্র্যাক ছাড়া এই জোটের অন্য সদস্য সংস্থাগুলো হলো— ব¬াস্ট, কেয়ার বাংলাদেশ, এফপিএবি, আইসিডিডিআরবি, মেরি স্টোপস বাংলাদেশ, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, প¬ান বাংলাদেশ, পপুলেশন কাউন্সিল, হোয়াইট রিবন ক্যাম্পেইন, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ এবং ইয়ুথ ফোরাম প্রোমোটিং অ্যাকসেস টু ডেভেলপমেন্ট—ওয়াইএফপিডি। ভবিষ্যতে এই জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। অনুষ্ঠানে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, অভিভাবকসহ সমাজের সকল মানুষ যদি সচেতন না হয় তবে কিছুতেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাবে না। বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে যুক্ত হওয়ার আহবান জানান তিনি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চেয়ারপারসন আয়েশা খানম বলেন, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় বাল্যবিয়েকে টিকিয়ে রেখেছে। এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তথ্য কমিশনের কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, এটা শুধু একদিনের নয়, এটা ৩৬৫ দিনেরই আলোচনার বিষয়বস্তু হওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্ল্যানিং কমিশনের সাবেক বিভাগীয় প্রধান সালমা খান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নুরুননবী, মানবাধিকার কমিশনের স্থায়ী সদস্য কাজী রিয়াজুল হক, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, নিশাত জাহান রানা, ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ অপরাধ দমন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার তাপতুন নাসরীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও শিক্ষাবিদ হান্নানা বেগম, একাত্তর টেলিভিশনের সংবাদকর্মী ফারজানা রূপা, রয়েল নেদারল্যান্ড অ্যাম্বেসির জেন্ডার উপদেষ্টা মুশফিকা জাহান সাতিয়ার, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কর্মসূচির পরিচালক চন্দন জে. গোমেজ, মেরি স্টোপস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর নিল তামবে প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ে বাল্যবিয়ের চিত্র তুলে ধরেন গাজীপুরের পিরুজালি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাজেদা বেগম ও ইজ্জত আলী এবং গাজীপুর সদরের কাজি মো. নুরুল ইসলাম।