দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো ভোটার তালিকা ছাপার কাজ শেষ করতে পারেনি। এদিকে ভোটার তালিকা নির্ভুল কিনা তা দেখার জন্য অতীতে ইসি নিরপেক্ষ অডিটের আয়োজন করলেও এবার তা হচ্ছে না। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, এর ফলে তালিকায় কোন ত্রুটি থাকলে নির্বাচনের আগে তা শুধরিয়ে নেয়া কষ্টকর হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ভোটার তালিকা যেহেতু অডিট হচ্ছে না, তাই তাতে ভুল থাকবে এটা স্বাভাবিক। জাতীয় পরিচয়পত্রের ১৫ শতাংশই ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায়ও এমন ভুল থাকতে পারে। বরাবরের মতো নিরপেক্ষ অডিট করালে এ ভুল শোধরানো যেতো। তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে নতুন ভোটার তালিকার ওপর এক জরিপ চালায় ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ। তাতে ১৫ শতাংশ ভুল পাওয়া গেছে।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার তালিকায় গরমিল থাকার কোন সুযোগ নেই। বর্তমান তালিকা শতভাগ সঠিক বলে তিনি দাবি করেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী সারাদেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৬২ লাখ এক হাজার ৮৭১ ও মহিলা ভোটার ৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৮১। হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর আগে ভোটার ছিল ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১। মৃত ভোটার কর্তন করা হয়েছে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০ জন। ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৪ জন।
তবে ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, গত জানুয়ারি মাসে হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ২২ লাখ। ২০০৮ সালে যা ছিলো আট কোটি ১১ লাখ। অর্থাত্ গত ৫ বছরে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক গড় ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু এর থেকে ১৮ বছর আগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিলো ১ দশমিক ৮০ শতাংশের মতো। এছাড়া এবার নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে চার লাখ কম। যদিও ২০০৮ সালে নারী ভোটারের সংখ্যা ছিলো ১৪ লাখ বেশি। এসব বিষয় ভোটার তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর প্রিন্টিং প্রেসে সারাদেশের ভোটার তালিকার মুদ্রণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণ শেষ হবে বলে তারা আশা করছে। এবারও ভোটার এলাকাভিত্তিক এই তালিকা মুদ্রণ করা হচ্ছে। ১ লাখ ১৮৬টি এলাকা ধরে এই মুদ্রণের কাজ হচ্ছে বলে ইসিসূত্রে জানা গেছে।
