টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

ভারতই শেখ হাসিনার কাছে আসবে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৮
স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে যে ‘গতিহীনতা’ দেখা দিয়েছে তা দূর করতে তত্পর হয়েছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার কলকাতাভিত্তিক টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় দুই দেশের সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে একাধিক মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তার ঢাকা সফরের পরিকল্পনা করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে না গেলে ভারত তার কাছে আসবে। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো মূল আলোচনায় স্থান পাবে। টেলিগ্রাফ জানায়, ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কে রহমান খান চার দিনের সফর শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন। একই সময় বিএসএফের মহাপরিচালক সুভাষ যোশীর নেতৃত্বে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্মেলন করেন। এছাড়া বাংলাদেশি পণ্য আমদানি শুল্ক নিয়ে জটিলতা দূর করতে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ঢাকা সফর করবেন। ভারত সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং তার আওতায় স্বাক্ষরিত প্রটোকল বাস্তবায়নে এ সংক্রান্ত বিল ভারতীয় পার্লামেন্টে উত্থাপন ও পাস না হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে যে ‘গতিহীনতা’ তৈরি হয়েছে তা দূর করতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে টেলিগ্রাফ লিখেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রাখতে চাই আমরা। স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বলে আসছে, এ চুক্তির বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের বিল ভারতীয় পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে অন্তত উত্থাপন করা হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এর আগে দুইবার পার্লামেন্টে বিলটি তুলতে গিয়েও বিরোধিতার মুখে স্থগিত করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। প্রথম দফায় বিজেপির এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস ও আসাম গণপরিষদের বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি। গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লি সফরে রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির অরুন জেটলির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের সমর্থন চান পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ভারত ও বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো বিনিময় হবে। বাংলাদেশের একজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানায়, চুক্তি বাস্তবায়নে এ সংক্রান্ত বিলটি পার্লামেন্টে তোলার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের ব্যর্থতায় দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা সহজিকরণ এবং বেশিরভাগ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোকে ঢাকা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে নয়াদিল্লি আশা করছে। এছাড়া এ সময়ে ভারত ৮০ কোটি ডলার ঋণ ও ২০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে, যার বেশিরভাগ সহায়তার অর্থ এরই মধ্যে ছাড় দেয়া হয়েছে।