জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের অবস্থান জানতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, সংসদ সচিবালয়, রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণের মতামত ও গণমাধ্যমের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে ইইউ’র এই বিশেষ পর্যবেক্ষক দল। তবে নিজেদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে জনগণের অবস্থান জানতে মাঠ পর্যায়ে জরিপও চালানো হচ্ছে। চলতি মাসেই পর্যবেক্ষণ শেষে ইইউ’র সদর দফতরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছে ‘পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি’।
গত সংসদ নির্বাচনে ১৮টি বিদেশি সংস্থার ৫৮৫ পর্যবেক্ষকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪৬ জন নিজস্ব পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল ইইউ। দেশি-বিদেশি মিলে ১ লাখ ৬০ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে ইইউসহ বিদেশি অর্থায়নে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে ৩২ এনজিও দেড় লাখ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।
ইইউ’র পর্যবেক্ষণ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থাই জানতে চায়। এ জন্য সব সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা সবাইকে অবহিত করে থাকি। ইইউ আগামী নির্বাচনের বিষয়ে মূলত জানতে এসেছিল। আমরা আমাদের প্রস্তুতির বিষয়ে তাদের জানিয়েছি।
পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইইউ প্রতিনিধি দল কমিশনের কর্মকর্তাদের মতামত নিয়েছে। পাশাপাশি দলটি আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা আছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক দলটি ১৫দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান তিনি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেও পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে ইইউ’র প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনে সব দল আসবে কিনা, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে কিনা, নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন হবে, জনগণ কী ধরনের নির্বাচন চায় এসব বিষয়ে এখনও পরিষ্কার নয় তারা। ইসির সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিলেও তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না ইইউ।
এ জন্য মাঠ পর্যায়ের সঠিক তথ্য জানতে নিজেরাই গত সপ্তাহ থেকে তিনটি ধাপে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে ইইউ। এর মধ্যে আছে নির্বাচন প্রস্তুতি, নির্বাচনী ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও নির্বাচনী বিভিন্ন আইন-কানুন। ধাপে ধাপে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে লুক প্যাটজ্যাল্টের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল আসে কমিশনে। এই দলটি বিভিন্ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।
ইসি সূত্র মতে, নির্বাচন কমিশন থেকে বার বার সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বিশ্বাস করতে পারছে না ইইউ। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় সংস্থাটি। এছাড়া নির্বাচনী কাজে ইউএনডিপির মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থ বরাদ্দ দিতে চায় সংস্থাটি। এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য টেকনিক্যাল সাপোর্ট, ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন, চার্জার লাইট ক্রয়সহ বেশকিছু কাজে অর্থ সহায়তা চেয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নির্বাচনের জন্য ১০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন করতে পারে সংস্থাটি।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
