উপ-কমিটির প্রতিবেদন

রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ গড়ে ২৩ লাখ টাকা দেয়ার সুপারিশ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতির পরিমাণ গড় প্রতি ২৩ লাখ টাকা করে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সরকারি উপ-কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের কাছে ইতিমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে। মূল কমিটি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে এই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করার পর চলতি মাসেই চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে। চার সদস্যের এই উপ-কমিটির প্রধান ছিলেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে রানা প্লাজায় নিহত এবং খোঁজ না পাওয়া প্রত্যেক শ্রমিকের লস অব আর্নিংয়ের ভিত্তিতে (উপার্জন অনুযায়ী ক্ষতি) হিসাব করা হয়েছে। এই হিসেবে কমিটি নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারে অন্তত এক জনের কর্মসংস্থান, মারাত্মক আহত হয়ে যে সব শ্রমিক পা হারিয়েছে তাদের সম্ভাব্য ক্ষতি ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এর আগে রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন করতে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে সরকার সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে প্রধান করে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে। সূত্র জানায়, কমিটি নিহত প্রতি শ্রমিকের বয়স গড়ে কুড়ি করে নির্ধারণ করেছে। আর তারা ৫০ বছর পর্যন্ত উপার্জন করত বলে ধরা হয়েছে। সেই হিসেবে তারা ৩০ বছর উপার্জন থেকে বঞ্চিত হলো। এই সময়ে তাদের প্রতি মাসের গড় মূল মজুরি ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা করে। এর সাথে আরো অন্যান্য সম্ভাব্য আয় যুক্ত করে তা ২৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল ইত্তেফাকের সাথে আলাপকালে উপ-কমিটির প্রধান এম এম আকাশ বলেন, আমাদের কাজ ছিল ক্ষতির মাপকাঠি নির্ধারণ ও সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এই মাসে মূল কমিটি এটি পর্যালোচনা করে তা চূড়ান্ত করবে। গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় পাঁচ শতাধিক।