আবাহনী-মোহামেডান লড়াই আজ

তারপরও উত্তাপ টের পাচ্ছেন অধিনায়করা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২১
মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠ আর ইনডোর মিলিয়ে সকাল থেকে প্রায় শ’দুয়েক ক্রিকেটারের মেলা। টেলিভিশন, পত্রিকা মিলিয়ে সাংবাদিকের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। এর সঙ্গে কর্মকর্তারা আছেন, আছেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। আর পুরো ব্যাপারটাকে আক্ষরিক অর্থে উত্সবের রূপ দিতে সেই পুরোনো দিনের মতো অনুশীলন দেখতে আসা দর্শকের ভিড়! মুগ্ধ চোখে চারদিক তাকিয়ে নির্বাচক ও সাবেক জাতীয় দল অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুই হেসে বললেন, ‘বোঝা যাচ্ছে কাল আবাহনী-মোহামেডান খেলা’! হ্যা, আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ঘরোয়া খেলাধুলার চিরায়ত যুদ্ধ; আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। এই দর্শকের ভিড়, এই মেলা এর কোনো কিছুই হয়তো আবাহনী-মোহামেডান লড়াইকে মাথায় রেখে নয়। হয়তো দেশি-বিদেশি তারকাদের দেখতেই ভিড় জমিয়েছেন দর্শকরা। তারপরও এটাই ভেবে নিতে ভালো লাগে যে, এখনও আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ের আবেদন একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। যদিও আবাহনী বা মোহামেডান কেউই এবার লিগের শীর্ষ দলগুলোর কাতারে থাকার মতো দল গড়েনি। তারপরও লড়াইয়ের আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, অন্তত দু’দলের অধিনায়কের কথাতেও তার সমর্থন মিললো। আবাহনীর অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস ও মোহামেডানের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা; দু’জনই বললেন, দিন অনেকে বদলে গেলেও এই চিরায়ত ম্যাচে এখনও সেই প্রতিদ্বন্ধিতার ঝাঁজ টের পান তারা। নিকট অতীতেই আবাহনীর অধিনায়কত্ব করেছেন। এবার মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করছেন। ফলে এই দু’দলের লড়াইটা এখন ঠিক কেমন, সেটা ভালোই বোঝা মাশরাফি যেমন বলছিলেন, ‘হ্যা, আগের সেই পরিস্থিতি হয়তো নেই। আসলে আবাহনী-মোহামেডান লড়াইটা তো জমিয়ে ফেলতেন সমর্থকরা। কিন্তু এখন সমর্থকরা অনেক ক্রিকেট দেখছেন, সরাসরি অনেক আন্তর্জাতিক খেলা দেখছেন। তাই হয়তো উত্তেজনাটা একটু কমে গেছে। কিন্তু আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আগে কিছুটা উত্তেজনা এখনও টের পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা এই ম্যাচের ব্যাপারে একটু বেশি সিরিয়াস থাকেন, সংবাদ মাধ্যম একটা ভূমিকা রাখে, এখনও অনেক ক্লাবঅন্তপ্রাণ সমর্থক আছেন। ফলে আমরা খেলোয়াড়রা এখনও আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের উত্তাপ টের পাই।’ প্রায় একই ধরনের ভাষ্য দিলেন আবাহনীর অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসও। তিনিও বলছেন, ছোট বেলায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এই আবাহনী-মোহামেডানকে ম্যাচকে ঘিরে শহরজুড়ে যে উন্মাদনা দেখেছেন, তা এখন আর নেই বটে। কিন্তু কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মাঝে এখনও উত্তেজনাটা আগের মতোই আছে। ফলে খেলোয়াড়দের শরীরেও ছোঁয়া লাগে সেই উত্তাপের। দুই অধিনায়ক যতই উত্তাপের কথা বলুন না কেন, কাগজ-কলমের হিসাব কিন্তু বলছে লড়াইটা আজ মোটেও সমানে সমান হবে না। পয়েন্ট তালিকাই বলে দিচ্ছে, দু’দলের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য আছে। এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত মোহামেডান দু’ম্যাচে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে আরও দু’দলের সঙ্গে শীর্ষেই আছে। আর আবাহনী ২ ম্যাচে এক জয় ও এক পরাজয় নিয়ে অনুমিতভাবেই লিগের শুরুটা ভালো করতে পারেনি। দু’দলের তারকাদের হিসাবও বলছে, মোহামেডান পরিষ্কার এগিয়ে। যদিও দেশিয় তারকা সংগ্রহে খুব ভালো মোহামেডান করেনি। তবে মাশরাফি বিন মতুর্জা, শামসুর রহমান, রাজিন সালেহ, সাকলাইন সজীব, মুরাদ খানদের বিবেচনায় নিলে খুব কার্যকর দল বলেই মানতে হবে। এর সঙ্গে দুই শ্রীলঙ্কান তারকা তিলকরত্নে দিলশান, উপল থারাঙ্গা ও মোহাম্মদ নবী মিলে দারুণ এক দলই হয়েছে মোহামেডানের। বিপরীতে আবাহনীর প্রধান তারকা তাদের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস, নাজিমউদ্দিন ও নাবিল সামাদ। আছেন তরুণ পেসার আল আমিন। সঙ্গে তাদের বিদেশি নতুন এসেছেন কান্ডাম্বি, আগে থেকেই আছেন থারাঙ্গা পারানাভিতানারা। এই হিসাব বলছে, পরিষ্কার পিছিয়ে আছে আবাহনী। কিন্তু শাহরিয়ার নাফীস এই হিসাবকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন, ‘আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা ভালো করছে। আর দুই দলের শক্তির পার্থক্য যাই হোক, আমরা জয় ছাড়া কিছু আশা করছি না।’ এই কথাটাই বললেন নাফীসের জাতীয় দলের সতীর্থ ও আজকের প্রতিদ্বন্দ্বী মাশরাফিও, ‘আমার মনে হয় দুই দলের শক্তি খুব কাছাকাছি। হ্যা, আমাদের দলে হয়তো দিলশান বা থারাঙ্গা আছে বলে একটু এগিয়ে আছি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এই এগিয়ে থাকাটা ব্যাপার না। ব্যাপার হল মাঠে কারা ভালো খেলছে। আর আবাহনী-মোহামেডানের লড়াইয়ে শক্তির পার্থক্যটা ব্যাপার না; লড়াইটা স্নায়ুর।’ এটাই হল সবচেয়ে বড় কথা—লড়াইটা স্লায়ুরই হবে!