জাহিদের জন্য কাঠগড়া শব্দটাই এখন যথার্থ। কারণ সাফের ব্যর্থতা খুঁজতে গিয়ে বাফুফের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি যাদের সাথে কথা বলেছে, তাদের সবার কাছ থেকে একটা নাম ঘুরেফিরে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি জাহিদ হাসান, জাতীয় দলের লেফট উইংগার। যার পায়ের কাজ লক্ষণীয় এবং প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে বিপদে ফেলে গোল করার মতো উত্স তৈরি করে দিতে পারদর্শী। উইং থেকে বলটাকে গোলমুখে সতীর্থ স্ট্রাইকারের মাথায় কিংবা পায়ে ফেলার মতো দক্ষতা আছে এই ফুটবলারের। জাহিদ পুরো দলটাকে খেলাতে পারদর্শী। কিন্তু কাঠমান্ডু সাফে নাকি জাহিদ তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলেননি। নিজেকে সংকুচিত করে রেখেছিলেন। এটাই তার বড় অপরাধ বলে মনে হচ্ছে তদন্ত কমিটির। জাহিদের অবস্থান জানতে আজ তাকে তদন্ত কমিটির সামনে ডাকা হয়েছে।
নেপালের বিরুদ্ধে জাহিদ মাঠে নামলেও তিনি ভালো খেলেননি। আক্রমণে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দুর্বল। ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। পরদিন অনুশীলন মাঠে বাংলাদেশ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বার বার বলছিলেন, জাহিদ ভালো খেললে পুরো দল ভালো খেলে। জাহিদ খেলাটাকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ও কি কারণে ভালো খেলতে পারছে না আমরা বুঝতে পারছি না।’ নেপালের কাছে হারের কারণ জানতে ডাচ কোচ ক্রুইফ কথা বলেছিলেন তার খেলোয়াড়দের সাথে। তিনি নাকি সবার মুখে জাহিদের কথা শুনেছেন। সবাই একবাক্যে বলেছেন জাহিদ ভালো খেললে দল উজ্জীবিত হবে। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে সেরা একাদশে ছিলেন না জাহিদ। কিন্তু কেন? শোনা গেছে, জাহিদ কোচের রোষানলে পড়েছিলেন। কারণ ক্রুইফ ম্যাচ ভিডিও দেখিয়েছিলেন জাহিদকে। তার ভুলগুলো মার্ক করে দেখিয়েছেন। কিন্তু এই সমস্যাগুলো মানতে নারাজ জাহিদ। যে কারণে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে জাহিদকে বাদ দেয়া হয়েছিল। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাহিদকে সেরা একাদশে দেখা গেল। প্রথম মিনিটেই জাহিদ নিশ্চিত গোলের বল বাড়িয়েছিলেন এমিলিকে। কিন্তু এমিলি গোল করতে পারেননি। ডিফেন্স ভেঙ্গে ঢোকার জন্য জাহিদের তুলনা হয় না। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র গেল মৌসুমে তিনটি শিরোপা পাওয়ার পেছনে জাহিদের পারফরম্যান্স দারুণ কাজে লেগেছিল। সবার কাছে জাহিদের কদর আছে। কিন্তু এই ফুটবলার সবসময় উদাসীন। কখন খেলবেন আর কখন খেলবেন না তা বলা কঠিন। তাই বলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে নেমে মেজাজের উপর নির্ভর করবে পারফরম্যান্স? নিজের সেরাটা দিতে পারবেন না তা কেউ মানতে পারছেন না। সবকিছুর পরও একটা সন্দেহের তীর জাহিদের দিকে বেশি ঝুঁকছে। জাহিদ নাকি পা বাঁচাতে নিজেকে সংকুচিত রেখেছিলেন। জবাব দিতে হবে বাফুফের কাছে। দেশের জন্য ভালো খেলতে হবে। কড়া নির্দেশনা আসতে পারে বাফুফে থেকে—জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করেছেন। সেখানে বাদল রায় বলছিলেন সবার মুখে জাহিদের বাজে খেলার কথাটা শুনতে হচ্ছে। কেন তার এমন হলো আমরা জাহিদের মুখ থেকেই শুনব।’
পা বাঁচিয়ে খেলার কথা কাল সংবাদ মাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন জাহিদ। তিনি বলেছেন, খেলা না উঠলে কি করব? তিনি বলেন, কেউ কি বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য খেলে না, যুদ্ধ করে না। খেলা খারাপ হয়েছে স্বীকার করছি। চেষ্টা করেছিলাম হয়নি।’
