দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের খোলা জায়গা এবং রেলওয়ের অব্যবহূত জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে দখল করা এই জমিতে অনেকে ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। জমির প্রকৃত মালিক নিউজপ্রিন্ট মিল ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার হয়নি। ফলে ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে নগরীর খালিশপুর এলাকার সাধারণ জমির মালিকরা। তারা আশঙ্কা করছে তাদের ফাঁকা বা পতিত জমিও এভাবে প্রভাবশালীরা দখল করে নিতে পারে।
এক সময় খুলনার পরিচয় দেয়া হত দেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট মিলকে দিয়ে। সেই নিউজপ্রিন্ট মিল ২০০২ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে পুনরায় নিউজপ্রিন্ট মিল চালুর আশ্বাস দিলেও তার কোন অগ্রগতি নেই।
সূত্র জানায়, ১৯৫৯ সালে তত্কালীন পাকিস্তান আমলে নগরীর খালিশপুরের ভৈরব নদের তীরে প্রায় ৯০ একর জমির ওপর নিউজপ্রিন্ট মিল যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে প্রায় ৩ একর জমি মূল বাউন্ডারির বাইরে ছিল। বাউন্ডারির বাইরের এই জমি মিলের উত্পাদনের বর্জ্য ও গাছের ছাল শুকানোর জন্য ব্যবহূত হতো।
বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট মিলের ভেতরে নিরাপত্তা প্রহরি ও র্যাব-৬ -এর প্রধান কার্যালয় থাকলেও বাইরের জমির কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে নিউজপ্রিন্ট মিলের পক্ষ থেকে মিলের বাইরের জমিতে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, এই জমির মালিক নিউজপ্রিন্ট মিল কর্তৃপক্ষ।
মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মিলের জমি দখল হতে থাকে। গত ১১ বছর ধরে ওই জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়, খালিশপুর থানা বিএনপি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া সরকারি এই জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নিজ নামে এবং তার ছেলে ও মেয়ের নামে তিনটি প্লট দখল করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দখলকৃত জমি রেলওয়ের। নিউজপ্রিন্ট মিল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব দলিল নেই। তিনি জানান, মিল বন্ধের পর বিএনপি সরকারের সময় থেকে দখল শুরু হয়েছে। আমরা ৬ জন ৬টি প্লট ভাগ করে নিয়েছি।
আর এক দখলদার জানান, আমরা গরিব মানুষ। দশ বছর ধরে এখানে ঘর তুলে বসবাস করছি। এখন দখল সত্ত্বেও আমি জমির মালিক।
এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মিলের জমি দখল করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। মিল বন্ধের পর তিনি সেখানে ঘর তুলেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দখলদারী চলছে। ওইসব প্রভাবশালীরা প্লট আকারে জমি বিক্রি করছে। এছাড়া অপর দুই ব্যবসায়ী ৩ শতক করে জমি দখল করে নিয়েছে। এক হোটেল ব্যবসায়ী জমিতে ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিউজপ্রিন্ট মিলের বাউন্ডারির বাইরের জমি প্রায় সবটাই দখল হয়ে গেছে। অনেক দখলদার জমিতে বাউন্ডারি করে ঘিরে রেখেছেন।
এছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম দিকে যারা দখলে ছিল তাদের অনেককে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে নতুনভাবে দখল করে প্লট আকারে সেই জমি বিক্রি করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানেও প্রকাশ্যে জমি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। নিউজপ্রিন্ট মিলের পক্ষ থেকে র্যাব-৬, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও খালিশপুর থানাকে এ ব্যাপারে জানানো হলেও কোন প্রতিকার হয়নি।
