নার্সিং একটা সেবামূলক পেশা। বিশ্বের হাজারো পেশার ভিড়ে এই পেশাটির এখন দিনে দিনে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নার্সের চাহিদা রয়েছে।
‘নার্স মানেই মনে সাদা, পোশাকে সাদা আচরণ ও কর্মে সাদা’। সবকিছুতেই যেন সাদার সমাহার। শান্তির প্রতীক এই সাদাকে তাঁরা মনে, মননে ধারণ করে জীবন/ যৌবনকে উত্সর্গ করেন সাদার ভুবনে।
সেবাই তাঁদের মূল ধর্ম, সেবাই তাঁদের ব্রত। রাত নেই, দিন নেই সংসার, পরিবার, সন্তানের মায়াকান্না তাঁদের সেবাধর্মী মনের কাছে অবহেলিত ও তুচ্ছ। সন্তানের প্রাপ্য ভালোবাসাটুকু দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন সাদা পোশাকের নারীরা। কিন্তু তাঁরা কি প্রাপ্য সম্মানী পাচ্ছেন?
বাংলাদেশে সরকারি/বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট আছে ২০০টি। আসন সংখ্য প্রায় ১৫ হাজারের মতো। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তথ্যমতে ডিপ্লোমা নার্স, বিএসসি নার্স মিডওয়াইফারি সবমিলে তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের হিসাবে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় ৩ লাখ নার্সের প্রয়োজন। অন্যদিকে দেশের নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো থেকে বছরে মাত্র এক হাজারের মতো নার্স পাস করে বের হচ্ছেন।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে, রোগীর সেবা প্রদানকালে একজন চিকিত্সকের সহায়তার জন্য ৩ জন নার্সের প্রয়োজন। সর্বোচ্চ ৪ জন রোগীর জন্য ১ জন নার্স থাকার কথা। ICU, CCU, HDU তে প্রতি বেডে একজন নার্স প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর অবস্থা এর বিপরীত। সরকারি হাসপাতালে একজন নার্স ৫০ - ৬০ জন রোগীর সেবার জন্য নিয়োজিত থাকেন। বেসরকারি ক্লিনিকে এর চিত্র পর্যাপ্ত রোগী না থাকার জন্য সামান্য কম। সেক্ষেত্রে রোগীরা সেবা তো পাবেন জলছিটার মতো। দেশের সব হাসপাতালে চলছে নার্স সংকট। পাশাপাশি নার্সদের আবাসন সংকটও অন্তহীন। ক্লিনিক / হাসপাতালে নাইট ডিউটি শুরু হয় রাত আটটা থেকে নয়টার ভিতর। নার্সিং পেশায় প্রধানত নারীরাই দখল করে আছেন। বর্তমানে ছেলেদের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরজন্য নিরাপদ আবাসন থাকা বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। নতুবা তাঁরা কর্মস্থলে যাবার নিরাপত্তা দিবে কে? এই পচন ধরা সমাজে যেখানে ঘরেই নিরাপত্তা নেই নারীদের। রাতে রাস্তায় কে দিবে নিরাপত্তা?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি নার্সদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেছেন।
বর্তমান সরকারের সাহসী উদ্যোগে বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারিভাবে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল আরো শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারলে, এ দেশের নার্স সম্প্রদায় আরো আলোর মুখ দেখবেন।
লেখক :গবেষক
