সমাবেশে যেতে ছুটি না দেয়ায় পোশাক শ্রমিকদের ভাংচুর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৫
ঢাকায় সমাবেশে যেতে ছুটি না দেয়ার অভিযোগে গতকাল শনিবার সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় হামলা ও ভাংচুর করেছে। এ সময় সাভারে ২ পক্ষের পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে এ হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন বৃদ্ধির দাবি ও সমাবেশে যেতে না দেয়ার অভিযোগে পোশাক শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় ২ পক্ষের পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাভারের ইত্তেফাক রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, গাজীপুর প্রতিনিধি ও কালিয়কৈর সংবাদদাতার পাঠানো খবর। সাভারের ইত্তেফাক রিপোর্টার জানায়, কয়েকটি পোশাক কারখানা গতকাল ব্যাপক ভাংচুর ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় অন্তত ৫ জন। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার অদূরে জিকে গার্মেন্টস, ডিসান গার্মেন্টস ও সাভার টেক্সটাইল লিমিটেডে হামলা চালায় শ্রমিকরা। শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, মহাসমাবেশ উপলক্ষে শনিবার পোশাক কারখানা ছুটি দেয়ার কথা থাকলেও সাভারের বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ পোশাক কারখানা খোলা ছিল। অপরদিকে মহাসমাবেশ উপলক্ষে কারখানা ছুটি না দেয়ায় আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকার জেড এম ও খানানি ফ্যাশনসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:সদর উপজেলার ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে গতকাল দুপুরে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করেছে একদল পোশাক শ্রমিক। তারা ফতুল্লায় অন্তত ১০টি পোশাক কারখানায় হামলা করে বাইরে ও ভেতরে ব্যাপক ভাংচুর করে। ঢাকার শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য ছুটি ঘোষণা না করায় লাঠিসোটা ও রড হাতে পোশাক শ্রমিকদের একটি দল মাথায় লাল কাপড় বেঁধে বিভিন্ন কারখানায় হানা দিয়ে ভাংচুর চালায়। এসব হামলায় অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা মেট্রো, মাইক্রোফাইবার, রূপসী, ক্যাটটেক্সসহ আরো কয়েকটি পোশাক কারখানায় হামলা করে ভাংচুর করে। এছাড়া শিবু মার্কেট এলাকায় ঢিল ছুঁড়ে অগ্রণী ব্যাংকে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। গাজীপুর প্রতিনিধি: মহানগরের বোর্ডবাজার, বড়বাড়ি, সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, বাসন সড়ক, চান্দনা চৌরাস্তা, নাওজোরসহ বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ দিতে গতকাল রাস্তায় জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা দেখতে পায় আশপাশের কিছু পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এক পর্যায়ে চালু থাকা কারখানা থেকে পোশাক শ্রমিকদের আনতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এ সময় পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষিপ্তভাবে ঢিল ছুঁড়ে বেশ কয়েকটি কারখানার কাঁচ ভাংচুর করে। এছাড়া তারা বেশ কিছু সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। কালিয়াকৈর সংবাদদাতা:পূর্বাণী, আইমন, নায়াগ্রা, ড্রেসমেন, জাহানারা ডিভাইন, ইন্টারস্টোপ, খান কম্পোজিট, সাউথইষ্ট, মাহমুদ জিন্স ও নূর গ্রুপ নিটওয়ারসহ অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গতকাল সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, ও চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও কালিয়াকৈর-জয়দেবপুর মহাসড়ক সকাল ৯টা থেকে সোয়া ১১ টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। এ সময় পোশাক শ্রমিকরা এপেক্স এডেল কি ফুটওয়ার লিমিটেডসহ, বেবা ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইকো টেক্সটাইল লিমিটেডসহ বেশকিছু কারখানায় ভাংচুর চালায় ও মহাসড়কে যানবাহন ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওয়ালটন হাইটেক পার্ক নামে একটি কারখানায় হামলার চেষ্টা করে। এ সময় ওয়ালটনের পোশাক শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়।