ভোট চাওয়ার অধিকার আওয়ামী লীগের আছে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা এবং আরো বেশি উন্নয়ন করার জন্য আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভোট চাওয়ার অধিকার আওয়ামী লীগের আছে। কারণ আওয়ামী লীগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেছে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে। গতকাল শনিবার গণভবনে দলের ছয়টি জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের মতামত নিতে ধারাবাহিক মতবিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের ঢাকা, পঞ্চগড়, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বরগুনা জেলা এবং এসব জেলার সব থানা, উপজেলা ও ১ম শ্রেণীর পৌর শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা যোগ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত আবারও ক্ষমতায় এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেবে। তারপর অত্যাচার-নির্যাতন, সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করবে। দুর্নীতি ও লুটপাট করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকবে। জনগণের উন্নয়নের দিকে তাদের নজরও থাকবে না। কাজেই এদের থেকে দূরে থাকতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে, এই কারণে যে, আমরা তাদের কল্যাণ করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, বিএনপি থাকলে হয় না। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে বলেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারে এসে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে দিয়েছে। আসলে যারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে, তারাই দেশের জন্য কাজ করে। আর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি দেশের জন্য কিছুই করে না। বিএনপিই আলোচনা চায় না অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৪ মে আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধীদলীয় নেত্রী ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। এরপর হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে সরকার উত্খাতের চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বারবারই বলছে বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাহলে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা কীভাবে জিতলো? তাহলে কী তারা ভোট কারচুপির কোন প্রক্রিয়া ভালো জানে? নিশ্চিয়ই তাদের কাছে ভোট কারচুপির কোন ট্রিক্স জানা আছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তারা জাতীয় পার্টির (এ) ওপর চড়াও হয়েছিল। আর ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের ওপর চড়াও হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা দেশকে বিশ্বের কাছে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নও করেছিল। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে এনেছে। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দলের কেন্দ ীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফরউল্যাহ, নূহ-উল-আলম লেনিন, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আবদুস সোবহান গোলাপ, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।