বগুড়ার সোনাতলায় এক ওষুধের দোকানে প্রায় দুই বস্তা পরিমাণ অবৈধ ওষুধ জব্দ করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটেছে। এর সূত্র ধরে ওষুধ প্রশাসন মামলা করলে জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকান মালিক জেলা ড্রাগ সুপারকে তার অফিসে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ফলে আরো একটি মামলা করেন ড্রাগ সুপার। এবার আসামির তালিকায় নাম আসে ড্রাগিস্ট সমিতির প্রধান দুই নেতারও।
আমাদের বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়া শহরের সকল ওষুধের দোকান শনিবার বন্ধ রেখে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জেলা ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট সমিতিভুক্ত দোকানীরা। আজ রবিবার দুই ঘন্টা জেলার সকল ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জেলার ড্রাগ সুপারের মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং ড্রাগ সুপারের অপসারণ দাবি করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘মেসার্স নাছিমা ফার্মেসিতে’ অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় দুই বস্তা অবৈধ ওষুধ জব্দ করাকালে দোকান মালিক শাজাহান আলী বাধা প্রদান করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই ঘটনায় ড্রাগ সুপার সুকর্ণ আহমেদ বাদী হয়ে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরেরদিন বেলা ১১টার দিকে জেলা ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট সমিতির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক ও অজ্ঞাত তিন যুবককে নিয়ে দোকান মালিক শাজাহান আলী সুপারের কার্যালয়ে যান। তারা ওই মামলার বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ড্রাগ সুপারকে গালিগালাজ শুরু করেন। পরে তার টেবিলে থাকা একটি ক্যামেরা এবং ল্যাপটপে লাগানো মডেম ছিনিয়ে নেন। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এই ঘটনায় ড্রাগ সুপার সুকর্ণ আহমেদ বাদী হয়ে জেলা ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
